রংপুরের পীরগঞ্জের ওসমানপুর বৈরাগীপাড়া গ্রামে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় ভাইকে হত্যার ৮ দিন পর ছোট ভাইসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। বুধবার (২ আগস্ট) রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ছোট ভাই মো. মহিবুল ইসলাম (৩০) ও বোন জামাই মো. আব্দুল মালেক (৩৮)।
র্যাব -১৩ অধিনায়কের পক্ষে মাহমুদ বশির আহমেদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, গত ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানাধীন ওসমানপুর গ্রামে ছোট ভাই মো. মহিবুল ইসলাম (৩০) এবং ভগ্নিপতী মো. আব্দুল মালেক (৩৮) এর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হেলাল মিয়া (৪০) খুন হয়।
জানা গেছে মৃত মো. হেলাল মিয়া (৪০) আসামিদের মাদক কারবারিতে কাজে বাধা নিষেধ করলে আসামিদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। মারপিটের একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি (ছোট ভাই) মো. মহিবুল ইসলাম (৩০) এর হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দ্বারা হেলাল মিয়া (৪০) এর পেটে গুরুতর আঘাত করলে ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা এসে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দেখে দ্রুত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলাল মিয়া (৪০)কে মৃত ঘোষণা করেন। হেলাল মিয়া (৪০) স্ত্রী নিজে বাদী হয়ে গত ২৬ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর পরই আসামিরা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩, রংপুর উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনার বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। একপর্যায়ে তথ্য উপাত্ত পর্যালচনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগরীর উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামী (ছোট ভাই) মো. মহিবুল ইসলাম (৩০), পিতা মৃত আব্দুর রহমান এবং ২ নম্বর আসামি মো. আব্দুল মালেক (৩৮), পিতা মো আপেল উদ্দিন, উভয় সাং ওসমানপুর (বৈরাগী পাড়া), থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুরকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। মৃত হেলাল মিয়া (৪০)’কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে আঘাতের মাধ্যমে হত্যা করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিদের পীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।