ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনি ঝামেলা দিন দিন যতই বাড়তে থাকুক, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। অন্য সব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চেয়ে তিনি অনেক অনেক এগিয়ে। বরং বলা যায়, ফৌজদারি মামলাগুলোতে অভিযুক্ত হওয়ার পর যেন তার অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে। এসব সমীক্ষার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। তার হাজিরা ঘিরে ওয়াশিংটন ডিসি এবং আদালতের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দণ্ডিত হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন ট্রাম্প।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত চার মাসে তিনটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। একবার নিউ ইয়র্কে একটি অর্থ সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে, একবার ফেডারেল আদালতে গোপনীয় দলিলপত্র নিজের কাছে রাখা এবং এর তদন্তে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে, আর মঙ্গলবার রাতে তিনি আবার ফেডারেল কোর্টে অভিযুক্ত হয়েছেন আরেকটি মামলায়। এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল উলটে দিতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাছাড়া ট্রাম্প চতুর্থ আরেকটি মামলায় অভিযুক্ত হতে পারেন সেটি হলো জর্জিয়ায়। এখানে অভিযাগ—২০২০ সালের নির্বাচনে এখানে তার পরাজয়কে উলটে দিতে তিনি রাজ্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
কঠোর নিরাপত্তা
ওয়াশিংটন ডিসিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতের বাইরে স্টিলের বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে। আদালতের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় বড় ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের গাড়িও সেখানে উপস্থিত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস ভবনের আশপাশেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রে ট্রাফিক সমস্যা দেখা দেবে এবং বাসিন্দাদের এটা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। মামলার অন্যতম বিচারক সুটকান এক অ্যাটর্নিকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার ঘুম আসেনি। তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আদালতে যা বলবেন ট্রাম্পের আইজীবীরা
আদালতে ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করবেন। তার আইনজীবী জন লরো এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তারা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তারা বলবেন যে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা বাক্স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে। অথচ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সেই স্বাধীনতাকে অপরাধ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা প্রসিকিউটরদের দ্রুত বিচার কার্যক্রমেরও বিরোধিতা করবেন। এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আরো যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের মামলার শুনানি গতকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
তারপরও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে
এত কিছুর ভেতর দিয়েও ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারাভিযান থামেনি। বরং তাতে আরো গতিসঞ্চার হয়েছে। গত ৩১ জুলাই একাধিক জনমত জরিপের এক গড় থেকে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব জরিপে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসের চাইতে ৩৭ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য ১৪ জন লড়াই করছেন। কিন্তু তাদের কারোর পক্ষেই, এমনকি ৬ শতাংশ জনসমর্থনও নেই। এদের অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থী এমনকি ১ শতাংশ সমর্থনও পাননি। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিও চিত্রটা ছিল ভিন্ন। তখন ট্রাম্প ও ডিসান্টিসের মধ্যে জনসমর্থনের পার্থক্য ছিল মাত্র দুই শতাংশ (যথাক্রমে ৪১% ও ৩৯%)। কিন্তু তার পর থেকে ফ্লোরিডার গভর্নরের সমর্থন ক্রমাগত নিচের দিকে নেমেছে। কিন্তু ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন এখনো পাথরের মতো শক্ত—এতটুক আঁচড় লাগেনি তাতে। এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ট্রাম্প যখন প্রথম বারের মতো অভিযুক্ত হলেন, তারপর থেকে বস্তুত তার পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। যদিও ট্রাম্পই হলেন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়া প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট । তার প্রথম বার গ্রেফতার হওয়া ও আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পই পরিণত হয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের প্রথম পছন্দে।
‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের মধ্যে যে একাত্মতাবোধ তা ভাঙা কঠিন হবে বলে মনে করেন ক্লিফোর্ড ইয়ং যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইপসসের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা। রিপাবলিকান ভোটারদের ৪০ থেকে ৪৫% ট্রাম্প সমর্থক এবং ইয়ং বলছেন, তারা ট্রাম্পের চোখ দিয়েই দুনিয়াকে দেখে। তারা বিশ্বাস করে ট্রাম্পের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।