ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছত্রকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনায় তিনটি কারণ শনাক্ত করেছে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করেছে কমিটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মামুন শিবলী।
তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির জন্য প্রথমত বাসটির চালকের খামখেয়ালিপনা, দ্বিতীয়ত চালকের অপেশাদারি আচরণ এবং তৃতীয়ত বিধি ভেঙে সড়কের পাশে বড় পুকুর খনন করা হয়েছিল। দুর্ঘটনাকবলিত বাস বাশার স্মৃতির ফিটনেস থাকলেও চালক মোহন খানের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল হালকা গাড়ি চালানোর। কিন্তু তিনি বাসের মতো একটি ভারী যানবাহন চালাচ্ছিলেন দীর্ঘদন ধরেই। তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, সড়কের পাশের বড় ও গভীর পুকুরটি মৃত্যুকূপ হিসেবে রূপ নিয়েছে। ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর বা মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা সড়কটি অত্যন্ত পুরোনো। এই সড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় জমির মালিকেরা তাদের জমি খনন করে মাছ চাষ করছেন। সড়কটির দুপাশে যদি মহাসড়কের মতোই ১০-১২ ফুট জমি অধিগ্রহণ করা থাকত, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটলেও এত প্রাণহানি হতো না।
তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ শিবলী মামুন বলেন, বাসের মালিকপক্ষের উচিত কার হাতে গাড়ি দিচ্ছেন তার যথাযথ মনিটর করা। তদন্তকারী আরো দুটি সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রকৃতপক্ষে চালক মোহন খানের খামখেয়ালিপনায় দুর্ঘটনা ও ১৭ জনের প্রাণহানি হয়। দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আগমুহূর্তে বাসের চালক তার সিটে বসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা নিয়ে তর্ক করছিলেন আর মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে। এছাড়া বাস মালিক সমিতি ও মালিকপক্ষ আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, পরিবহন চলাচলে নির্দেশনা মেনে চলতে গড়িমসির কথা উঠে এসেছে। এসব প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে সম্প্রতি সড়কে গাড়ির চাপ বাড়লেও সেই অনুপাতে সড়ক প্রশস্ত না করার প্রসঙ্গ।
উদ্ধারকারী সংস্থা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ঝালকাঠির উপপরিচলক ফিরোজ কুতুবী বলেন, ‘আমাদের তদন্তকাজ প্রায় শেষ। এখন প্রতিবেদন সম্পন্ন করে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ আর প্রতিবন্ধকতা সব বিষয় উঠে এসেছে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, প্রতিবেদন পেয়েছি, সুপারিশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিবেদন সম্পর্কে বাসের মালিক ও শ্রমিকদের জানানো হবে।
এদিকে ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, দুর্ঘটনায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি এক জনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই সকালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ছত্রকান্দা নামক স্থানে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি পুকুরে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়।