৩৭০ ধারা বাতিল জম্মু-কাশ্মীরের জন্য কতোটা স্বস্তিদায়ক?

বর্তমানে কাশ্মীরের পরিবেশ অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কাশ্মীর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ,মোহাম্মদ সাঈদ মালিক। ৩৭০ ধারা বাতিলের চার বছর পর তিনি এ মন্তব্য করলেন।  

কেন্দ্রীয় সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিল এবং জম্মু-কাশ্মীরকে দুইটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এ সিদ্ধান্তের বৈধতার ওপর প্রশ্ন তুলে সুপ্রীম কোর্টে পিটিশন করা হয়। কিন্তু চার বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোর্ট এ সম্পর্কিত কোনো রায় দিতে পারেনি।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট রাজ্যের বিশেষ সাংবাদিক মর্যাদা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। 

এর ফলে ভারতের অনেক রাজনৈতিক দল দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। এক দল এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও অন্য দল এর তীব্র বিরোধিতা করে। 

আগাম বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা অবশ্য বিবেচনাধীন। 

ছয় বছরের দীর্ঘ সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক ক্ষমতা বর্তমানে কমে আসছে। এর প্রধান কারণ হলো দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য শাসন করলেও বৈধ প্রতিনিধির অভাব অপূরণীয়। 

তবে পূর্বের তুলনায় রাজ্যে শান্তি স্থাপন এবং জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিকদের একটি সুরক্ষিত জীবন প্রদান, কেন্দ্রীয় সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন।

দীর্ঘকাল পর জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন বেশ ভালোভাবে চালাতে পারছেন।

তবে জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও বিচ্ছিন্ন ইউটি লাদাখ অঞ্চলে কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতা হ্রাস করার একটি প্রক্রিয়া চলছে।

দেশটিতে গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই, গত পাঁচ বছরে এনসি, পিডিপি এবং কংগ্রেস ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে।

এই প্রক্রিয়ায় বিজেপির আত্মবিশ্বাসের ঝলকও দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক, সাংবিধানিক এবং নির্বাচনী প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজেপি দারুণ আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিচ্ছে।

গত বছর বিধানসভা ও সংসদীয় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাগুলো পরিলক্ষিত করে এবার কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়গুলো এড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু-কাশ্মীর ক্ষমতা লাভের ইচ্ছা কেন্দ্রীয় সরকারের বহুদিনের।

কয়দিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় তিনটি মনোনীত বিভাগের আসন তৈরি করতে সংসদে একটি বিল উত্থাপন করে। এছাড়াও সংরক্ষিত বিভাগের অধীনে আগের চেয়ে বেশি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই, গত পাঁচ বছরে এনসি, পিডিপি এবং কংগ্রেস ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশের নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি ছিল আশ্বাসদায়ক। 

মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখেই ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু-কাশ্মীরের শান্তি আনয়নের বার্তা আরও ভালোভাবে সামনে আসছে এখন। কেন্দ্রীয় সরকার এ ধারা বাতিলকে নানাভাবে উদযাপন করছে। শ্রীনগরে এ ধারা বাতিল উদযাপন উপলক্ষে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপিত হয়েছে।