চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় নিহত ১৪

প্রলয়ংকারী টাইফুন ডকসুরির প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় চীনে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দেশটির শুলান শহরে সপ্তাহান্তে আরও ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব চীন, বেইজিং এবং হেবেই প্রদেশে দুই সপ্তাহ আগে আঘাত হানা টাইফুনের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিলিন প্রদেশের শুলান শহরে মৃতের সংখ্যা গত সপ্তাহে বেইজিং এবং হেবেইতে প্রাণহানির সংখ্যার থেকেও বেশি। কর্তৃপক্ষ এখনও সমগ্র দেশের মোট নিহতের সংখ্যা জানাতে পারেনি।

রবিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার জনসংখ্যার শহর গুলানের ভাইস মেয়রসহ আরও তিন কর্মকর্তা নিহতদের তালিকায় রয়েছেন।

ইতোমধ্যে শহরের পানির স্তর নিরাপদ সীমায় চলে এসেছে। বাসিন্দাদের স্থানান্তরিত করতে এবং অবকাঠামো মেরামতের জন্য জরুরি প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৩০৫টি বাড়িতে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব চীনের প্রধান নদী সোংহুয়া এবং নেনজিয়াং উপনদীর কিছু অংশ বিপজ্জনকভাবে উচ্চ স্তরে রয়েছে।

গত পাঁচ দিনের রেকর্ড অনুযায়ী হেইলংজিয়াংয়ের রাজধানী হারবিনের দক্ষিণে এবং নিকটবর্তী শহর মুদানজিয়াং, উত্তর জিলিন প্রদেশে এবং এর পূর্বে ইয়ানবিয়ানে বৃষ্টিপাত প্রায় ১০০ মিমি বা তার বেশি।

বেইজিং এবং হেবেই প্রদেশের অনেক বন্যা কবলিত এলাকায়ও বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জিলিন, হেইলংজিয়াং এবং লিয়াওনিং-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

টাইফুনটি দক্ষিণ জাপানেও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপের ওপর দিয়ে ভ্রমণ করার সময় চীনের উত্তর-পূর্ব দিকে বাতাস এবং বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এটি জাপান থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার খানুন উপকূলে আঘাত করার আগে এর গতি এবং তীব্রতা বৃদ্ধি করতে পারে বলে চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাসদাতা জানিয়েছে।