গৃহবধূকে জিম্মি করে ধর্ষণ, ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

রংপুরের পীরগঞ্জে হত্যার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াছিন আরাফাত শুভর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক রয়েছেন এই ছাত্রলীগ নেতা। 

গত ২৬ জুন দিনগত রাতে পীরগঞ্জ  থানায় ইয়াছিন আরাফাত শুভকে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার  উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার  ভুক্তভোগী গৃহবধূ রাতের খাবার শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘর থেকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাত শুভ পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে পাশের এক মাটির ঘরে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী গৃহবধূকে খুন করার ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন ইয়াছিন। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী টর্চ লাইট নিয়ে তাকে খুঁজতে বের হয়ে ধর্ষণ করার দৃশ্য দেখে চিৎকার দিলে অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাত শুভ পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ইয়াসিন আরাফাত শুভকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে অবিলম্বে ধর্ষক শুভকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর প্রতিবেশীরা।

এ ঘটনায় রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানিম আহসান চপল বলেন, ইয়াসিন আরাফাত শুভর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা আদর্শের জায়গা থেকে ছাত্র রাজনীতি করি। ছাত্রলীগে কোনো অপরাধীর ঠাঁই নেই। বিষয়টি ভালোভাবে জেনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবগত করা হবে।

পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি শুভকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ইয়াসিন আরাফাত শুভর বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই আমরা তদন্ত করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।