রাজধানীর পান্থপথের দৃক পিকচার লাইব্রেরিতে গতকাল বুধবার প্রামাণ্যচিত্র ‘গনি’ প্রদর্শন করা হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের জীবনযুদ্ধের করুণ কাহিনী যেমন উঠে এসেছে পাশাপাশি আব্দুল গনির জীবনযুদ্ধ এবং তা জয় করার গল্পও বলা হয়েছে। ‘গনি’ প্রামাণ্যচিত্রটি গত বছর কাতারে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের পটভূমিতে তৈরি।
আব্দুল গনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ইত্তেফাকের একজন ফটোসাংবাদিক। যিনি বাংলাদেশ প্রেস ফটো বিজয়ী আলোকচিত্রী। প্রামাণ্যচিত্রের নাম ভূমিকায় তিনিই আছেন। প্রামাণ্যচিত্রটির প্রধান চরিত্র আব্দুল গনিকে অনুসরণ করে। আব্দুল গনির তার প্রথম জীবনে অভিবাসী কর্মী হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পুরস্কার বিজয়ী এ ফটোসাংবাদিক মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসী কর্মীদের জীবনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্যতা প্রকাশ করেছেন।
প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শনের আগে এর নির্মাণ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে সূচনা বক্তব্য রাখেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বনামধন্য আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন গনি নিজেও।
‘গনি’ প্রামাণ্যচিত্রটি জ্যাকসন ওয়াইল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০২৩-এর চারটি ফাইনালিস্ট ফিল্মের একটা হিসেবে মনোনীত হয়েছে। আনটেমড প্ল্যানেট এবং দৃক পিকচার লাইব্রেরি এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন মালাইকা ভাস এবং শহিদুল আলম। রুশা বোস ছিলেন চিত্রগ্রাহক।
প্রামাণ্যচিত্রটি একজন অভিবাসী কর্মী থেকে একজন ফটোসাংবাদিক তৈরি করার গল্প বলে। সেই সঙ্গে একজন ফটোসাংবাদিকের দৃষ্টিকোণ থেকে কাতারে অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন ও জীবনযাত্রার অবস্থা বর্ণনা করে। চিত্রটি আব্দুল গনির জীবনযুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধ জয়ের কাহিনীও বলে। এছাড়া এতে উঠে এসেছে তার কাজের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের গল্পও।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের যে কঠোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তার জীবন্ত চিত্র উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে নিয়োগকারীদের দ্বারা শ্রমিকদের শোষণ এবং গ্রীষ্মকালে কাতারের নির্দয় সূর্যালোকে দগ্ধ হয়ে কত যুবক মারা গেছে সেটাও প্রকাশ করে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যে দেখা গেছে, ১৯৭৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ মিলিয়ন বাংলাদেশি কর্মী ১৬২টি দেশে গেছে, যার ৮০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে। ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের তথ্যে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষ ১০টি শ্রম প্রেরণকারী দেশের মধ্যে একটি। যেখানে ২০০২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪১ হাজার ৫৩ অভিবাসী শ্রমিকদের মৃতদেহ ফিরে এসেছে। ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের তথ্য বলছে যে, ৬৮ দশমিক ২৩ শতাংশ মৃত্যু অস্বাভাবিক। সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ মৃত্যু, আর যেখানে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণে যথাক্রমে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ১ দশমিক ১৭ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে।