চাঁদে পানি খোঁজার জন্য মহাকাশযান পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফট ল্যান্ডিং করার পথে রয়েছে ভারতের চন্দ্রযান-৩। ভারতের আগে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে এবার সেই অভিযান পরিচালনার কথা জানাল রাশিয়া। খবর রয়টার্সের।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চাঁদে পানি থাকার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আসছেন। তাদের ধারণা চাঁদের পৃষ্ঠ সাহারা মরুভূমির চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শুষ্ক। তবে ২০১৮ সালে নাসার ম্যাপ চাঁদের ছায়াযুক্ত অংশে বরফের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মার্কিন মহাকাশ সংস্থাটি চাঁদের সূর্যালোক এলাকায় পানি থাকার বিষয় নিশ্চিত করে।
রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, লুনা-২৫ নামের মহাকাশযান বহনকারী রকেট সয়ুজ ২.১ভি মস্কো থেকে ৫ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার পূর্বে ভোস্টোচনি কসমোড্রোম শুক্রবার চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিবে। যানটির ২৩ আগস্ট চাঁদে নামার কথা রয়েছে।
১৯৭৬ সালের পর এটিই রাশিয়ার প্রথম চন্দ্র মিশন। ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্প্রতি এই অভিযান মস্কো পরিচালনা করছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
১৯৬৯ চাঁদে প্রথম পা রাখেন মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং। তবে চাঁদে প্রথম পৌঁছানো মহাকাশযান ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের। মিশনটি লুনা-২ নামে পরিচিত যা ১৯৫৯ সালে চাঁদে অবতরণ করে। লুনা-৯ নামের আরেকটি মিশন পরিচালিত হয় ১৯৬৬ সালে। এটি প্রথমবার চাঁদে সফট ল্যান্ডিংকারী মিশন ছিল।
কিন্তু মস্কো তখন মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের দিকে মনোনিবেশ করে এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে রাশিয়া পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে মিশন পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রধান শক্তিগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদে অভিযান নিয়ে কাজ করছে। যদিও গত বছর একটি জাপানি চন্দ্র অভিযান এবং ২০১৯ সালে একটি ইসরায়েলি অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এখনো কোনো দেশ সফট ল্যান্ডিং করতে পারেনি। ভারতীয় মিশন চন্দ্রযান-২ ২০১৯ সালে এটি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। রুক্ষ ভূখণ্ড থাকায় চাঁদের এই অঞ্চলে অবতরণ করা কঠিন। তবে এই অংশে পানির সন্ধান ঐতিহাসিক ঘটনা হবে নিঃসন্দেহে।
রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে, চাঁদে যেতে পাঁচ দিন সময় লাগবে। মেরুর কাছাকাছি তিনটি সম্ভাব্য অবতরণ স্থানে নামার আগে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে ৫ থেকে ৭ দিন কাটাবে।