পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা। খালি পড়ে আছে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো। বেচাকেনা নেই খাবার হোটেলগুলোতে। মুষলধারে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়েছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়। গত পাঁচ দিন ধরে এমন বৈরী আবহাওয়া কুয়াকাটায়। যাওয়া যাচ্ছে না ঘরের বাইরে। এমন আবহাওয়া বিপাকে পরেছেন সমুদ্র সৈকতে আসা পর্যটকরা। মঙ্গলবার থেকেই অনেক পর্যটক বাড়ি ফিরে গেছেন। পর্যটকরা চলে যাওয়ায় অনেকটা খালি পড়ে আছে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো। বেচাকেনা নেই খাওয়ার হোটেলসহ অন্যান্য দোকানগুলোতে। তারা বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে দোকান আটকে বাড়িতে চলে গেছেন।
খাওয়ার হোটেল-মালিক রুহুল আমিন বলেন, কুয়াকাটায় কোনো পর্যটক নেই। তাই বেচাকেনা একদম বন্ধ। এ অবস্থায় তাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। বর্তমানে ৯০ ভাগ রুমই খালি। কাঁকড়া ও ফিশ ফ্রাইয়ের দোকান ২৩টি, শুঁটকির দোকান ২৮টি, পোশাকের দোকান ২০টি, ছবি প্রিন্ট ও এডিটিং স্টুডিও ১০টি, বার্মিজ আচার ও চকলেটের দোকান ৮০টি, ঝিনুকের দোকান ১২০টি রয়েছে। তারা হতাশ হয়ে বলেন, ‘একদম বেচাকেনা নেই। বসে বসে না ঝিমিয়ে বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছি।’
কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক রেদওয়ান পারভেজ বলেন, ‘কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে আনন্দটাই একেবারে মাটি হয়ে গেছে। গত তিন দিন হোটেল থেকে বের হতে পারছি না। সি-বিচে নেই কোনো পর্যটক। খাওয়ার হোটেলগুলো প্রায় বন্ধ। কয়েকটা হোটেল খোলা রয়েছে। তাতে তাজা খাবার নেই। সৈকতে নেমে গোসল করেও আনন্দ পাইনি। বলতে গেলে হাতে গোনা কয়েক জন গোসলে নেমেছে। এক কথায় বলা যায়— পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা। নেই কোনো মানুষের কোলাহল। নেই কোনে বিনোদনব্যবস্থা। বৃষ্টিতে ভিজে সাগরে নেমেছি। একা নামতে ভয় হচ্ছে। বর্তমানে মানুষশূন্য কুয়াকাটা।’ পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাসুম জানান, ‘যাত্রী নেই। গত পাঁচ দিন ধরে গাড়ি প্রায়ই ফাঁকা যাচ্ছে। অনেক ট্রিপ বাদ হচ্ছে যাত্রীর অভাবে। কাউন্টারে বসে বসে সময় কাটাচ্ছি।’
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকরা আসতে পারেননি। যা-ও এসেছিলেন, তাও চলে গেছেন। মঙ্গলবার থেকে হোটেলের বুকিং নেই। অথচ এই সময় কুয়াকাটায় প্রতিদিন শত শত পর্যটকের পদভারে মুখরিত থাকে। টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন পর্যটকশূন্য।’ কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আ. খালেক বলেন, ‘এই দিনে কুয়াকাটায় বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটত। আমরা নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হতো। এখন একেবারে নীরব নিস্তব্ধ কুয়াকাটা।’ কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার জানান, এই সময়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকত। অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুয়াকাটায় এখন সুনসান নীরবতা।