যে কারণে হাওয়াই দ্বীপে বিধ্বংসী দাবানল

ভয়াবহ দাবানলের আগুনে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের মাউই এবং লাহাইনা। এখন পর্যন্ত ৮৯টি তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই দাবানল। ঘড় ছাড়া হয়েছে হাজার হাজার বাসিন্দা। অসংখ্য ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। নারকীয় তাণ্ডবের কারণে দেশটির ইতিহাসে আঘাত হানা সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে এটি।

৮ আগস্ট মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া দাবানল এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পরিষেবা। কিন্তু কি কারণে এই বিধ্বংসী দাবানল? যদিও আগুন লাগার কারণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। তবে, ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে উচ্চ বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেছে। এই ধরনের পরিবেশে দাবানল মারাত্মক আকার ধারণ করে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের মতে, আমেরিকার প্রায় ৮৫ শতাংশ দাবানল মানুষের কারণে হয়ে থাকে। অপরদিকে প্রাকৃতিক কিছু কারণ যেমন বজ্রপাত এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, ইত্যাদির কারণেও দাবানল হয়ে থাকে।

হাওয়াই ওয়াইল্ডফায়ার ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহ-নির্বাহী পরিচালক এলিজাবেথ পিকেটের মতে, ১ শতাংশের কম দাবানল প্রাকৃতিক কারণে হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ছয়টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার মধ্যে একটি মাউইতে অবস্থিত।

পিকেট বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘যখন আপনি আপনার মাটি হারিয়ে ফেলেন, তখন পুনরুদ্ধার করা এবং প্রতিস্থাপন করা সত্যিই কঠিন। এই রকম পরিস্থিতিতে যারা টিকে থাকতে পারে তাদের বেশিরভাগ আক্রমণাত্মক প্রজাতি হয়ে থাকে।’

ইয়েল স্কুল অব দ্য এনভায়রনমেন্টের গবেষণা বিজ্ঞানী জেনিফার মারলন সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন অদ্ভুত ঘটনাগুলো খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওয়াই সাধারণত একটি ভেজা, গ্রীষ্মমন্ডলীয় দ্বীপ। এখানে মারাত্মক দাবানলের কথা শুনতে খুব অদ্ভুত লাগলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অদ্ভুত ঘটনাগুলো আরও সাধারণ হয়ে উঠছে।’

গবেষণা বিজ্ঞানীর মতে, হাওয়াইয়ের দাবানল শক্তিশালী বাতাস এবং শুষ্ক অবস্থার সংমিশ্রণে জ্বালানীর মতো কাজ করে। একারণে দ্বীপের পরিবেশে তা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাম্প ফায়ার ঘটনার পর একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি।