বন্যার পরিস্থিতি

আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর ২০ পরিবার বসবাস

ষাটোর্ধ কৃষক শওকতুল ইসলাম, চার সন্তানের জনক। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা নন্দীরপাড়ার বাসিন্দা। গত ছয় দিন ধরে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া (এবিসি) আঞ্চলিক  মহাসড়কের ওপর ঝুপড়ি বাসা বেঁধে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। 

পাহাড়ি ঢলে ও টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে কৃষক শওকতুলের বসতবাড়ি। নিরুপায় হয়ে কলেজ পড়ুয়া মেয়েসহ চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মহাসড়কের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করেছে।

রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে শওকতের স্ত্রী রোশন আরা বেগম বলেন, বন্যায় তাদের বসতঘর গলা সমান পানি। আর সেই পানিতে ঘরের প্রায় সমস্ত মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। গত ছয় দিন যাবত তারা মহাসড়কের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। ব্যস্ততম সড়কের এক পাশে ঝুপড়ি ঘর করে স্বামী, চার সন্তানসহ ছয়জন এক ঘরে থাকতেছি। আতঙ্কে দিন পার করছি। রাতে গাড়ির আওয়াজে ঘুমাতেও পারি না।

তিনি বলেন, গত দুদিন হলো বাড়ি থেকে পানি নেমে গেছে। এরপরেও বাড়িতে ফিরতে পারছি না, কাদায় ভোরে আছে। বাড়িতে পা রাখলে হাটু পর্যন্ত কাদায় ঢুকে পড়ছে। ঘরের অবস্থাও টলমল। এখনো জানি না কয়দিন পর বাড়িতে ফিরতে পারবো। এক দুর্বিষহ দিন পার করছি আমরা।

আক্ষেপ করে রোশন আরা বেগম বলেন, বন্যার এই পরিস্থিতিতে তাদের কপালে শুধুমাত্র সামান্য শুকনো খাবার জুটেছে। বেশি সময় তাদের না খেয়েও দিন পার করতে হয়েছে। সুপেয় পানির সংকটে রয়েছে।

শুধু শওকতুল ইসলাম নয়, সড়কে তার মতো অন্তত আরও বিশ পরিবার বসবাস করছে।

চার সন্তানের জনক দিদারুল ইসলাম বলেন, আমিও পাঁচদিন ধরে সড়কের ওপর পলিথিন মুড়িয়ে দিন পার করছি। ঝুপড়ি ঘর ঘেষে অহরহ গাড়ি যাচ্ছে।প্রতি মুহূর্তে চরম আতঙ্কে থাকি।

একবার সামান্য ত্রাণ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।  

সরেজমিন দেখা গেছে, এবিসি সড়কের নুইন্যা-মুইন্যা ব্রিজ অংশ থেকে পেকুয়া-চকরিয়া সংযোগ ব্রিজ (বাঘগুজারা ব্রীজ) পর্যন্ত মহাসড়কের একাধিক পয়েন্টে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে বসবসাস করছে অন্তত ২০টি পরিবার। বেঁধে রাখা হয়েছে গরু, ছাগল। কয়েকটি পরিবারকে গবাদিপশুর সঙ্গে একসাথে বসবাস করতেও দেখা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু ছালেক বলেন, প্রায় ঘরে ত্রাণ গেছে। সড়কের ওপর আশ্রয় নেওয়া পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বলে দিয়েছি তাদের জন্য রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে। তাদের কাছে আমি নিজেই যাবো।