মাছের আশা নতুন ‘জো’তে সাগরে নামছেন আনোয়ারার জেলেরা

সাগরে নতুন ‘জো’ জেলেদের মনে নতুন আশা। ‘জো’ হলে সাগরে পানি বেড়ে যায়। এ সময় গভীর সমুদ্র থেকে সাগরের মাছ চলে আসে উপকূলের কাছকাছি। ফলে খুব সহজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ মেলে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ছিল ‘ডালা’। ‘ডালা’ চলাকালীন সাগরের পানি কম থাকে। এ সময় মাছ ধরার ট্রলারগুলো উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। জেলেরা নিজেদের ছেঁড়া জাল বোনাসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সেরে নিয়েছেন। আরবি মাসের ২৬ তারিখ থেকে ‘জো’ শুরু হচ্ছে। তাই ধীরে ধীরে সাগরে নামতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় মাঝি-মাল্লারা।

জেলে ও মত্স্যজীবীরা জানান, প্রতি মাসে দুটি জো ও দুটি ডালা থাকে। তারা চাঁদের মাস, অর্থাৎ আরবি মাস অনুযায়ী এসব হিসাব করেন।

তাদের মতে, সাধারণত প্রতি আরবি মাসের ৩ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত ডালা, ৯ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত জো, আবার ১৮ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ডালা, ২৬ থেকে ২ তারিখ পর্যন্ত জো। জোর সময় সাগরে পানি বাড়ার কারণে জেলেদের জালে অধিক হারে মাছ ধরা পড়ে। কিন্তু ডালায় পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে তেমন একটা মাছ পড়ে না।

সরেজমিনে সর্ববৃহৎ উঠানমাঝির ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ৪০-৫০ জন জেলে ট্রলারের নিচে চাকা লাগিয়ে ঠেলে ঠেলে উপকূল থেকে সাগরে নামাচ্ছেন ট্রলারগুলো।

ট্রলার মালিক ছোটন বলেন, আমার দুটি ট্রলার আছে। গত জোর সময় প্রচুর মাছ ধরা পড়েছিল। খরচ পুশিয়ে দুই ট্রলার থেকে চার  লাখ টাকা আয় হয়েছে।

তিনি জানান, এক ‘জো’তে এক ট্রলারে সর্বনিম্ন দুই লাখ টাকা খরচ হয়।

ট্রলার মাঝি গিয়াস উদ্দিন জানান, গত জোর সময় সাগর খুব উত্তাল ছিল। তাই সাগরে যেতে পারেননি। তবে যারা মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সাগরে নেমেছিলেন, তারা প্রচুর পরিমাণে মাছ পেয়েছেন। কাল-পরশু থেকে আবারও জো শুরু হচ্ছে। এই জোতে এখনো পর্যন্ত সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আশা করছি, এবার সবাই মাছ নিয়ে উপকূলে ফিরবে।

উঠানমাঝির ঘাট কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দীন জানান, এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় জেলেদের জালে মাছ বেশি ধরা পড়ছে।

তিনি জানান, জনপ্রতি মাঝিকে এক মাসে ৫৫-৬০ হাজার টাকা এবং শ্রমিককে ৩২-৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তার ওপর ট্রলারের তেল, জাল, খাওয়ার খরচও রয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছুদিন উপকূলে অবস্থান করেছিল ট্রলারগুলো। তারপর থেকে আবারও পুরোদমে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। কাল থেকে ‘জো’ শুরু হচ্ছে। আশা করছি, বিগত বছরগুলোর তুলনায় জেলেদের জালে আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে।

এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ টন ইলিশ মাছ ধরা হয়েছে বলে জানান এই মত্স্য কর্মকর্তা।