আইডিয়ালের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যের সঙ্গে বিয়ে, সেই ছাত্রীর সন্ধান চায় পরিবার

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বাদী তার মেয়ের সন্ধান চেয়েছেন। বাদী অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামের বাড়ি থেকে খন্দকার মুশতাক আহমেদ অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে। অপহরণের দুই মাস পরও তার মেয়ের সন্ধান পাননি। মেয়েকে ফিরে পেতে ও ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সোমবার (১৪ আগস্ট) সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ও অপহরণের শিকার ছাত্রীর বাবা এই দাবি করেন। 

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থানায় মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের  সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এক ছাত্রীকে প্রলোভন ও ধর্ষণের অভিযোগে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইডিয়ালের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকেও আসামি করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মামলার বাদী বলেন, খন্দকার মুশতাক আহমেদ এখন পর্যন্ত ৬টির বেশি বিয়ে করেছেন। পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য হওয়ায় তিনি প্রতি বছর ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে সহযোগিতা করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী। তারা দুজনে মিলে বহু ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছেন। তার মেয়ে ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মুশতাক তার মেয়েকে দেখে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে সে সাড়া না দেওয়ায় তাকে অপহরণের হুমকি দেয়। বিষয়টি তাকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষকে অবহিত করেন, কিন্তু অধ্যক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তিনি নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে তার মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও চলে যান। বিষয়টি মুশতাক টের পেয়ে গত ১২ জুন মাইক্রোবাসে সশস্ত্র ৮-৯ জন সন্ত্রাসী নিয়ে তার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর গত ২২ জুন ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন। এরপর থেকে খন্দকার মুশতাক তাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। পরে উপায় না পেয়ে ৮ আগস্ট গুলশান থানায় খন্দকার মুশতাকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে পারেনি। খন্দকার মুশতাক প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তিনি কোনো সুবিচার পাচ্ছেন না।