মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে সড়কে হাঁটা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার বিকাল থেকে ঐ ছবি ফেসবুকে ছড়ায়।
ছবিটি পৌরসভার এক ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার বলে একটি মহল প্রচার করছে। তবে চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কছির উদ্দিন কচির বলেন, বুধবার বিকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে অস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তিটি আসলে কে সেটা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তিনি আরো বলেন, যুবলীগ অস্ত্রবাজিকে প্রশ্রয় দেয় না।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকালে চকরিয়ায় সংঘর্ষে ফোরকানুর রহমান (৫০) নামের এক দোকানি নিহত হন। ঐ সময় জামায়াতের নেতারা তাদের এক কর্মী গুলিতে নিহতের অভিযোগ করলেও চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, তারা কোনো গুলিবর্ষণ করেননি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা পড়তে অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এরপর তিন বার জানাজার স্থান বদল করা হয়। সর্বশেষ চকরিয়া পৌরসভার নামারচিরিংগা এলাকার মামা-ভাগিনার মাজার-সংলগ্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা পড়ার সিদ্ধান্ত হয়। জানাজা পড়তে বিকাল ৪টার দিকে মানুষ মামা-ভাগিনার মাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। ঐ সময় বায়তুশ শরফ সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢোকেন চকরিয়া থানার ওসি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ঐ সড়ক দিয়ে তাদের যেতে দেখে জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষ উত্তেজিত হয়ে স্লোগান দেন এবং ওসি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা করেন।
এ সময় পুলিশ, মুখোশ পরা ব্যক্তি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে দোকানি ফোরকানুর রহমান নিহত হন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ফোরকানুর রহমানের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদকে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।