চাঁদে বিধ্বস্ত রাশিয়ার মহাকাশযান লুনা-২৫

রাশিয়ার মহাকাশযান লুনা-২৫ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে চাঁদে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রায় ৫০ বছর পর এটি ছিল রাশিয়ার প্রথম চন্দ্রাভিযান। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করা প্রথম মহাকাশযান হওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করেছিল রাশিয়া।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যানটিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির সন্ধান করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কেননা বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের রহস্যময় এই অংশটিতে বরফ এবং অন্যান্য মূল্যবান উপাদান থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ কর্পোরেশন রোসকসমস রোববার সকালে বলেছে, শনিবার বিকেল ২টা ৫৭ মিনিটের পরেই তারা লুনা-২৫ এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে ৮০০ কেজি ওজনের ল্যান্ডারটি চাঁদের পৃষ্ঠের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করা হবে।

লুনা-২৫ যানটির ক্ষতি রোসকসমসের জন্য অনেক বড় ধাক্কা। রাশিয়ার বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি কয়েক বছর ধরে কমে আসছে। যার মূল কারণ হলো রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ক্রমশ সামরিক দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের চন্দ্রযান-৩ মিশনে নামার পর রাশিয়া তাড়াহুড়ো করে লুনা-২৫ মিশনে পাঠায়। ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর একজন মুখপাত্র লুনা-২৫ দুর্ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

রোসকসমস এর আগে বলেছিল, লুনা-২৫ এর মিশন ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটির ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যানটিকে ১১ আগস্ট রাশিয়ার পূর্ব আমুর অঞ্চলের ভোস্তোচনি কসমোড্রোম থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই সপ্তাহের বুধবার এটি সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে।

অপরদিকে ভারতের চন্দ্রযান ইতিহাসের প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফট ল্যান্ডিং করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে কোনো দেশ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেনি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ই চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেছে।

সোভিয়েত আমলে ১৯৭৬ সালে সর্বশেষ লুনা-২৪ নামের চন্দ্র মিশন পাঠিয়েছিল রাশিয়া। মিশনটি তখন সফল হয়েছিল।