ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১ লাখ টাকায় গৃহবধূ হত্যা মামলা রফাদফার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ২ মাস আগে হত্যার শিকার এক গৃহবধূ হত্যা মামলা ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ আগস্ট) বিকালে আখাউড়া পৌরসভা ভবনে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন পৌর কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে এক সভায় বিষয়টির মীমাংসা হয়। এদিকে হত্যা মামলা সালিশের মাধ্যমে শেষ হওয়া নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আখাউড়া পৌর মেয়র তাকজীল খলিফা কাজলের বড় ভাই দানিস খলিফাসহ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র এনামুল আহসান খাদেম, বাবুল মিয়া, পৌর কাউন্সিলর জান্নাত হোসেন ঈশান, সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, কাজী লিটন খাদেম, রফিকুল ইসলাম শিশু, মো. তাজুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কাদির মোল্লা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মানিক মিয়া। সভা শেষে নিহতের পরিবারকে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন।

জানা যায়, ২২ জুন সকালে কথা কাটাকাটির জেরে আখাউড়া পৌর শহরের চন্দনসার এলাকার সোমা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করে একই এলাকার আরিফ হাসান জিকু ও তার পরিবারের লোকজন। পরদিন শুক্রবার বিকালে জেলা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সোমা আক্তার চন্দনসারের জাকির হোসেন টিপু’র স্ত্রী। এ ঘটনায় সোমা আক্তারের বাবা মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে আরিফ হাসান জিকুসহ তার পরিবারের ৪ জনকে আসামি করে আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনার পর পুলিশ জিকুর মা হোসনে আরা বেগমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে। বাকি আসামীরা এখনো পলাতক রয়েছেন।

৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এনামুল আহসান খাদেম বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে সালিশ বৈঠকে সোমা আক্তার হত্যার ঘটনাটি মীমাংসা করেছি। নিহতের পরিবারকে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিপন হায়দার বলেন, সোমা আক্তারের হত্যার বিষয়টি শেষ হয়েছে। সোমার ২ সন্তানকে  ৪ লাখ এবং তার বাবাকে ৭ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন বলেন, হত্যা মামলা আপোষ যোগ্য না। এটা আপোষ করা যায় না।

আখাউড়া থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলা সামাজিকভাবে মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিরা পলাতক আছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এখন বাইরে কে কি করলো এটা আমাদের দেখার বিষয় না।