অবশেষে ফুকুশিমার পানি ছাড়তে শুরু করেছে জাপান

ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি বৃহস্পতিবার থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়া শুরু করেছে জাপান। এই পানি নিরাপদ বলে জোর দিয়েছে দেশটি। তবে তাদের এই পদক্ষেপকে ‘স্বার্থপর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই বছর আগে জাপান সরকারের অনুমোদন এবং গত মাসে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার থেকে গ্রিন সিগনাল পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫৪০টি অলিম্পিকের সুইমিং পুলের সমপরিমাণ পানি প্রায় ১২ বছর ধরে আটকে রেখে সেগুলো এখন প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলছে জাপান। ২০১১ সালের ১১ মার্চ বিশ্বের অন্যতম ভয়ানক পারমাণবিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হয় ফুকুশিমার দাইচি প্ল্যান্ট। ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামির আঘাতে কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি ধ্বংস হয়ে যায়। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই স্থানটিকে বাঁচাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে টোকিও।তবে, চীন বৃহস্পতিবার এই পরিকল্পনার দৃঢ় বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, জাপান সরকার পানি নিষ্কাশনের বৈধতা প্রমাণ করেনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, জাপানি পক্ষের উচিত নয় স্থানীয় জনগণের এমনকি বিশ্বের জনগণকে তার নিজস্ব স্বার্থের জন্য গৌণ ক্ষতি করা।
চীন বলেছে, তারা সামুদ্রিক পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি পানি ছাড়ার পর তারা বিকিরণের মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করবে। চীনের দাবি, বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন কথা ছড়াচ্ছে জাপান। এই পানি সামান্য পরিমাণে হলেও মানুষ এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। 

তবে সাগরে পানি ছাড়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসছে জাপানের মাছ ধরা সম্প্রদায়। এর ফলে তারা মাছ ধরে সেগুলো রপ্তানি থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রি পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

চীন শাসিত হংকং এবং ম্যাকাও বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী টোকিও এবং ফুকুশিমাসহ অঞ্চলগুলো থেকে আসা জাপানি সামুদ্রিক খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রস্তুত।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু বলেছেন, জনসাধারণের উদ্বেগ লাঘব না হওয়া পর্যন্ত ফুকুশিমার মৎস্য ও খাদ্য পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পানি ছাড়া নিয়ে ইতোমধ্যে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক সমাজে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।