দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণ সেতু

অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না!

কথা আছে অপেক্ষার প্রহর নাকি শেষ হয় না, এমনই অবস্থা দুধকুমার নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের রেলসেতু পারাপারকারীদের।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। বৃটিশ আমলে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের রেলসেতু দিয়ে এক কথায় বাধ্য হয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের পাথর ও কয়লা বোঝাই যানবাহনসহ সকল যানবাহনের পারপার হতে হচ্ছে।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালে একনেক বৈঠকে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের দুধকুমার নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুর দক্ষিণে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু ২৩২ কোটি টাকায় নির্মাণের অনুমোদন হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ২০১৯ সালে ২২ জুলাই নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০২১ সালে ২২ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, ধীরগতি ও নানা অজুহাতে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট পিসি গার্ডার সেতু পাঁচ বছরেও নির্মাণ কাজ ৩০ ভাগ সম্পন্ন করতে পারেনি।

এতে ক্ষুব্ধে সেতু ব্যবহারকারী যানবাহনের চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

তাদের অভিযোগ, সোনাহাট স্থলবন্দরের পাথর ও কয়লা বোঝাই ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করায় হুমকির মুখে পড়েছে নির্মিত স্টিলের রেলসেতুটি। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দ্রুত পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা খুব দুঃচিন্তায় রয়েছি। যে কোনো সময় পুরাতন সেতু ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটে স্থল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক শামিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানিয়ে দেন।   

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ করছে এ কথা স্বীকার করেছেন কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। 

তিনি জানান, সোনাহাট পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যেই সড়ক বিভাগের সচিব মহোদয় সরেজমিন তদন্ত করেছেন। আশা করা যায় দ্রুত কাজ শুরু হবে।