পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনায় সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ 

হালনাগাদ করা হচ্ছে জনসংখ্যা নীতি। ২০১২ সালে শেষ হালনাগাদ করা হয় এই নীতি। জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, নির্ভরশীল মানুষের সুরক্ষা, অঞ্চলভিত্তিক শিল্পায়ন, অভিবাসী শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনে জনসংখ্যার ওপর প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে নতুন নীতিতে। খসড়া নীতির উল্লেখযোগ্য দিক জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন বলেন, পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত দম্পতির। স্বামী-স্ত্রীকে সন্তান নেওয়া বিষয় যথেষ্ট জ্ঞান দিলে তারাই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিতে গ্রহণ করবেন। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা ৬২ শতাংশ। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ, ফলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। নতুন নীতি কার্যকর করার সময় ২০৩০ সাল নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৭৩-৭৮) জনসংখ্যা সমস্যাকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবার পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ১৯৭৬ সালে জনসংখ্যা নীতির রূপরেখা করা হলে এর ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে জনসংখ্যা নীতি করা হয়। ১১ বছর আগে শেষ হালনাগাদ হয় এই নীতি, সেখানে গুরুত্ব পায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ। ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক দুইটি সন্তানই যথেষ্ট’ ‘একটি হলে ভালো হয় দুটি হলে আর নয়’—স্লোগানকে কাজে লাগিয়ে চলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রচারনা। উক্ত নীতিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার ৭২ শতাংশ উন্নীত করে মোট প্রজনন  হার (টিএফআর) ২ দশমিক ১ এ নামিয়ে আনা। এবং ২০১৫ সালের মধ্যে নিট প্রজনন হার ১ অর্জন করা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-মতে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ।

জনসংখ্যা নীতি হালনাগাদ করছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এই কার্যক্রমের পরামর্শক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ২০১২ সালের নীতির রূপকল্প অর্জন করার ছয়টি অবজেক্টিভ ছিল। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছিল বাকি পাঁচটি অবজেক্টিভ। নতুন নীতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার দিকে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। যা ২০১২ সালে অনুপস্থিত ছিল।

খসড়া নীতির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মো. মতিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ভিশন ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সহ বেশি কিছু লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনসংখ্যা নীতি হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই এই খসড়া চূড়ান্ত এবং নতুন নীতিতে বাস্তবায়নের সময় ২০৩০ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে ।  জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে হালনাগাদ করা নীতিতে ব্যবস্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নীতি হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম একইভাবে চলবে। একই সঙ্গে তার ভাষ্য, ব্যবস্থাপনা নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে গুরুত্ব পাবেন প্রবীণ।  বলেন, খসড়াই চূড়ান্ত নয়, মন্ত্রণালয় নীতি চূড়ান্ত করবে।

এই ব্যবস্থাপনা জনসংখ্যা হ্রাসের হার বাড়িয়ে জনসংখ্যা বিষয়ক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে কিনা প্রশ্ন করলে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ ড. আবু সাইদ হাসান বলেন, এর সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার প্রজনন স্বাস্থ্যের চাহিদগুলো সব পূরণ হলে নিজেই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করবেন। তবে তার চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এলাকার মানুষ দেশের মধ্যে অভিবাসন করে। তাই স্থানীয়ভাবে কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারলে অভিবাসন কম হবে। শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নীতি লক্ষ্য অর্জন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।