ঘিওরে ভাঙনের মুখে মসজিদ-কবরস্থান

ঘিওরে ইছামতি নদীর পানি বৃদ্ধি এবং গত সপ্তাহের টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া, ফুলহারা, বড় রামকান্তপুর এবং ঘিওর সদর ইউনিয়নের হিজুলিয়া, কুঠিবাড়ী, কুস্তা, রসুলপুর, ছোট রামকান্তপুর গ্রামের শতাধিক পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, কবরস্থানসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা যে কোনো সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে বর্ষার শুরুতে ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে চলে গেছে ১৫টি বসতভিটা, ব্রিজ, কালভার্ট, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটের একাংশ। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলার ঘিওর সদর ইউনিয়নের রামকান্তপুর এলাকায় ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত পুরোনো জামে মসজিদ। পাশেই কবরস্থান।  আশপাশের চার গ্রামের ৬-৭ হাজার মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায় এবং কবরস্থানে মরদেহ সমাহিত করার কাজ করেন। বর্তমানে নদীভাঙনের ফলে মসজিদ ও কবরস্থানটি হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, মসজিদসংলগ্ন নদীর পাড়ে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। নিচ থেকে মাটি সরে মসজিদের কয়েকটি পিলার বেরিয়ে গেছে। পাশের রামকান্তপুর কবরস্থানও ছুঁয়েছে নদী। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে চলতি বর্ষাতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষার জোর দাবি জানায় এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল বলেন, প্রতি বছরের বর্ষায় ইছামতি নদীতে ভাঙন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ভেঙেই চলছে দুই পাড়। এখন এলাকার একমাত্র মসজিদ ও কবরস্থান ভাঙনের মুখে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ না নিলে মসজিদসহ আরো অনেক বসতভিটা বিলীন হয়ে যাবে। প্রবীণ আইজুদ্দিন মিয়া বলেন, ‘বড় বড় নেতা আসেন, কর্মকর্তারা আসেন, দেখে যান। কিন্তু আমাদের এলাকার ভাঙন থামাতে কোনো কাজ হয় না। কয়েকটি জিও ব্যাগ ফেলেছেন। এতে ভাঙন একবিন্দুও থামেনি।’ ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, একাধিক বার আবেদন ও সরাসরি যোগাযোগ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার অনুমোদন পাশ হয়। চলতি মাসের শুরুতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে মাত্র ৩০০ ব্যাগ জিও ব্যাগ ফেলেন। এরপর অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ বরাদ্দ বৃদ্ধি করার বিকল্প নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হবে। মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ইছামতি নদীভাঙন রোধে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ চলমান রয়েছে। মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। প্রয়োজনে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে