২০২৩ সাল বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মশতবর্ষ। এ উপলক্ষ্যে আগামী দুই বছরব্যাপী দেশে ও বিদেশে সুলতানকে নিয়ে নানা অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের লক্ষ্যে ‘জন্মশতবর্ষে সুলতান: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদযাপন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন বরেণ্য শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব থাকবেন আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুন।
এছাড়া কমিটিতে দেশের প্রথিতযশা শিল্পী, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প সমালোচক, আলোকচিত্রী, স্থপতি, চলচ্চিত্রকার, শিক্ষক, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, কিউরেটর, ছাত্র, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্প সংগঠকসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় ৪০০ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে।
এস এম সুলতানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এই কমিটি দুই বছরব্যাপী যথাসময়ে নানা আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে নিভৃত পল্লি মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে বাবা-মা আদর করে নাম রাখেন লাল মিয়া। ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে চিত্রশিল্পী সুলতান তার তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেন বিশ্ববিখ্যাত সব ছবি।
১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পল ক্লি, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। কালোত্তীর্ণ এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।