সখীপুরে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে এলপি গ্যাস। সরকার নির্ধারিত দাম মানছেন না বিক্রেতারা। ভোক্তারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনে নিচ্ছেন। প্রতি মাসের জন্য এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিটি এলপিজি বিক্রি করা দোকানে নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শনেরও নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে নির্ধারিত দাম ও মূল্য প্রদর্শনের নির্দেশনা দুটোই মানা হচ্ছে না। এক সপ্তাহ জুড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি খুচরা বিক্রেতার দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার তক্তারচালা, নলুয়া, সখীপুর পৌর শহর, কচুয়া, ঘোনারচালা, বড়চওনা ও কুতুবপুর বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বাজারের অলিগলিতে বেশকিছু দোকানে ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৪৮০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো দোকানে ১ হাজার ৬০০ টাকাও দাবি করা হচ্ছে। অথচ চলতি মাসের শুরুতেই ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
সখীপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, গ্যাসের চাহিদা বেশি। কিন্তু কোম্পানির পক্ষ থেকে সার্ভিস কম। এজন্য আশপাশের দোকান থেকেও কিনে আনতে হয়। তাই দামও একটু বেশি। তিনি বলেন, মূল্যতালিকা লাগানোর কথা জানি না।
একাধিক খুচরা বিক্রেতার দাবি, তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা করে দাম রাখেন হোলসেলাররা। সঙ্গে আছে গাড়ি ভাড়া। এজন্য তারাও দাম বেশি রাখেন। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, সখীপুর, টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি এলাকা থেকে তাদের গ্যাসের বোতল সরবরাহ করা হয়। তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করেন।
বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ডিলার মাসুদ রানা বলেন, সখীপুর উপজেলায় প্রতি মাসে শুধু বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ৫ হাজার পিস বোতলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তিনি এ মাসে ৬৫০ পিস পেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কোম্পানির ডিও রেট বেশি। আরো আনুষঙ্গিক খরচও রয়েছে। তাই ভোক্তা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আলম বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।