দুর্নীতিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: মাদারীপুরের ডিসি

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্যায় ও দুর্নীতিকারীদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া বা প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।  সোমবার (২৮ আগস্ট) কালকিনি উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে কালকিনি উপজেলায় পৌঁছালে তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. কায়েসুর রহমান ও কালকিনি থানার ওসি মো. নাজমুল হাসান । 

মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান ৩ এপ্রিল ২০২৩ সালে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পান। যোগদানের পর থেকে মাদারীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ রাত-দিন তার সেবা পাচ্ছে। জেলার সামাজিক ও মানবিক কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য জেলাবাসীর কাছে ইতোমধ্যে তিনি ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

সম্প্রতি গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাদারীপুর জেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদারীপুর জেলাকে দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসসহ সকল প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ড মুক্ত রাখবেন। তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে দুদককে ডেকে এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সব ধরনের অন্যায় এবং দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। অন্যায় ও দুর্নীতিকারীদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া বা প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। 

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান যেসব বক্তব্যে দিয়েছিলেন তার অধিকাংশই কাজ প্রায় তিন মাসের মধ্যে করতে পারায় আজ সুশীলসমাজ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের কাছে ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান অল্প কয়দিনের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন চক্র ও এর সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। তার কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, কুমার নদে দিন-রাত একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন।

অন্যদিকে দালালচক্র রুখতে কঠোরভাবে মালিকানা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে মাদারীপুর ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কর্মকর্তারা ডিসি অফিসের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্থদের এলাকায় এসে চেক বিতরণ করেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান এর জন্য। জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এ ছাড়াও সরেজমিনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গেলে কথা হয় দুই জন অবসরে যাওয়া ব্যক্তির সাথে। তারা বলেন, আমাদের অবসরে যাওয়া ফাইল দীর্ঘদিন আটকা ছিল। নতুন ডিসি স্যার এসে আমাদের ফাইলে সই করে দিয়েছে। শুধু আমাদের ফাইল নয় তার টেবিলে থাকা সমস্ত ফাইল সই করে দিয়েছে। তার মতো বড় মনের মানুষ আমরা কম দেখেছি। তিনি কোনো মানুষকে হয়রানি করেন না। 

এ ছাড়াও কথা হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে। তাদের সবার মুখে ছিল একই কথা অন্যায় ও দুর্নীতি যে করবে তাকে ডিসি স্যার কোনোভাবে ছাড় দেবে না। 

তারা আরও বলেন, আমরা তার সাথে কাজ করে একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি তিনি কাউকে হয়রানি করে না। অন্যদিকে জেলার ট্রাফিক ব্যবস্থা, বাল্যবিবাহ, চিকিৎসাসেবা ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ডিসি স্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।