ডিবি পরিচয়ে মধুপুরে এক বীমা কর্মকর্তাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পর দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে মধুপুর ও ধোবাউড়া থানার মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। এর ফলে মামলা করতে আসা পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে মধুপুর উপজেলার গোপদ গ্রামের বীমা কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বীমার কাজ করার সময় জলছত্র-গুচ্ছগ্রাম থেকে অপহৃত হন। চারজন দুর্বৃত্ত চোখমুখ কালো কাপড়ে তাকে বেঁধে বেদম মারধর করে একটি গাড়িতে উঠানো হয়। গাড়িতে থাকাবস্থায় একপর্যায়ে ওই বীমা কর্মকর্তাকে চেতনানাশক সেবন করে বেহুঁশ করে ফেলা হয়। এর মধ্যেই অপহরণকারীরা প্রাণহানির ভয় দেখিয়ে মারুফের আত্মীয়দের কাছে একটি নাম্বারে এক লাখ টাকা বিকাশ করতে বলে। প্রাণ বাঁচানোর শর্তে দুর্বৃত্তদের দেয়া নাম্বারে এক লাখ টাকা বিকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় জিডি করা হলে মধুপুর থানার পুলিশ বিকাশ নাম্বার ট্র্যাকিং করে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় চান। ধোবাউড়া থানার পুলিশ গত বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম মাইজপাড়া থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। মারুফ এখন মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে গত বুধবার সকালে মধুপুর থানায় পরিবার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছিল।
মারুফের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাকে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এখন মধুপুর না ধোবাউড়া থানায় মামলা হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
মধুপুর থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, অপহরণের ঘটনায় মধুপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীকে যেহেতু ধোবাউড়া থানার পুলিশ উদ্ধার করেছে, তাই মামলাটা ধোবাউড়া থানায়ই দায়ের করতে হবে।
ধোবাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, মধুপুর থানার পুলিশের সংকেত পেয়ে ধোবাউডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান গতকাল বুধবার ভারতীয় সীমান্ত এলাকার ভেদিকুড়া গ্রাম থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার সূত্রপাত যেহেতু মধুপুর থানায়, জিডি করা হয়েছে সেখানেই। তাই মামলাও মধুপুর থানায় হওয়া দরকার।