নানাবিধ প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন ছালমা বেগম। তিনি তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারের মো. ইমাদুল মোড়ল স্ত্রী। তার এ ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে ছিল বে-সরকারি সংস্থা উত্তরণ। ২০২০ সাল থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় উত্তরণ আমার প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
পাটকেলঘাটা এলাকার মো. আনিস উদ্দীন মোড়লের কন্যা ছালমা বেগম বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে পাটকেলঘাটা বাজারে বসবাস করেন। বর্তমানে ৩ ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। সংসার চালাতে বেশ হিমশিম পোহাতে হতো তাদের। এক সময় উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর অধিকারের বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। নিজের নিয়তি মেনে নিয়ে দারিদ্র স্বামীর সংসারে মানবেতর জীবনে অভ্যস্ত ছিলাম। অথচ আমার পিতার পরিবারে অভাব ছিল না বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরণের আমার প্রকল্পের উঠানবৈঠকে অংশগ্রহণ করে সচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় জানতে পারেন। এর মধ্যে নারীর উত্তরাধিকার বিষয়টি তাকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি প্রকল্পের মাঠকর্মীর নিকট থেকে বিষয়টি খুব ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি বুঝতে সক্ষম হয়, উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের অভাব অনেকটা দূর হবে।
এদিকে একপর্যায়ে ছালমা বেগম তার পিতার কাছ থেকে প্রাপ্য ২ শতক জমি সম্পত্তির বুঝে নেন। জমিটি পাটকেলঘাটা বাজারের উপর হওয়ায় তার বাজার মূল্য তুলনামূলক বেশি ছিল। সংসারে আয় বৃদ্ধির জন্য ছালমা বেগম জমিটি ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই অর্থ দিয়ে তিনি এক বিঘা জমি বন্ধক রাখেন যা দিয়ে বছরে প্রায় ১০ মণ ধান পান। একই সঙ্গে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তার নামে একটি পিকআপ ক্রয় করেন। গাড়িটি বর্তমানে তার স্বামী চালান এবং মাঝে মাঝে ভাড়া দেন। এখন পিকআপের ভাড়ার টাকা ও জমির ধান দিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবে চলছে। তিনি সংসাসের খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় করছেন। বর্তমানে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই আছেন ছালমা বেগম।