মাঝরাতে বাসার ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে চোর। ভেন্টিলেটর ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় প্রকৌশলী সদরুল আলমের। বাসার মধ্যে চোর দেখে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় রুমে থাকা আল-আমিন নামের চোর পকেট থেকে সুইচ গিয়ার চাকু বের সদরুল আলমের দিকে এগিয়ে আসে। সদরুল আলম চোরকে ঝাপটে ধরার চেষ্টা করলে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে সদরুল আলমের মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় চোর আল-আমিন। প্রকৌশলী সদরুল আলমকে হত্যার ২২ দিন পর তিন জনকে গ্রেফতার করে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আল আমিন, শুভ ও রিমন হোসেন। গত রবিবার থেকে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বলছে, তারা কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন অফিসে ঢুকে টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মালামাল চুরি করেন। তাদের মধ্যে শুভ ও রিমন প্রায় ১০ বছর ধরে ভেন্টিলেটর ভেঙে চুরি করে আসছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
গতকাল সোমবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে ইউনুস মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়ির চতুর্থ তলায় এক বছর ধরে একাই থাকছিলেন প্রকৌশলী সদরুল আলম। গত ১২ আগস্ট রাতে অফিসের কাজ শেষে বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন সদরুল। পরদিন সকালে বাড়ির মালিক মো. ইউনুস মিয়া একটি মানিব্যাগ পান। মানিব্যাগের ভেতরে সদরুল আলমের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসার জন্য তার রুমের সামনে গিয়ে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করতে থাকেন । রুমের ভেতর থেকে সাড়া না আসায় তিনি ৯৯৯ কল করেন। কেরানীগঞ্জ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সদরুলের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মোসা. রেবেকা সুলতানা রত্না বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতার হওয়া শুভ ভ্যান চালিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে তিন জনকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ থানাধীন আরশিনগরে যান। তারা চুরি করার জন্য পাশাপাশি ভবন, সিকিউরিটি গার্ড নেই এমন বাড়ি খুঁজতে থাকেন। এসময় তাদের চোখে ইউনুস মিয়ার ভবনকে সুবিধাজনক বলে মনে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্যান নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন রিমন। আর শুভ ও আল আমিন বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেন। এরপর আল আমিন ভেন্টিলেটর ভেঙে চার তলায় সদরুল আলমের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে গেলে ‘চোর চোর’ বলে আল আমিনকে ধরতে যান সদরুল। তখন আল আমিন তাকে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
আসাদুজ্জামান জানান, আল আমিনকে আরশিনগর থেকে সুইচ গিয়ার চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে শুভকে মোহাম্মদপুরের লাউতলা এলাকা থেকে ভ্যানসহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রিমনকে। তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।