পূর্বাচল নীলা মার্কেট এলাকায় অবৈধভাবে দখলে থাকা সকল বাণিজ্যিক দোকান ভেঙে দিলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। জোন-৪/২ এর আওতাধীন এই এলাকায় মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানে রাস্তা ও আবাসিক প্লটে অবৈধভাবে নির্মাণকৃত বাণিজ্যিক দোকানসমূহ সম্পূর্ণ রূপে অপসারণ করা হয়। অভিযান পরিচালনায় নের্তৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আরা।
পূর্বাচল এলাকায় মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।
পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সংলগ্ন নীলা মার্কেট এলাকায় রাজউকের আবাসিক প্রকল্পে ১ নম্বর সেক্টরে রাস্তা ও আবাসিক প্লটে অবৈধভাবে নির্মাণকৃত বাণিজ্যিক দোকানসমূহ সম্পূর্ণ রূপে অপসারণ করা হয়। এসব প্লটে ও রাস্তায় অবৈধভাবে দখল করে দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয়রা দখলে রেখেছে। তারই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করার পাশাপাশি মাদকসেবক ও নানান অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো।
রাস্তা ও আবাসিক প্লটে অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণকৃত বাণিজ্যিক দোকানসমূহ সরিয়ে নিতে মৌখিক নোটিস প্রদান করার পরও কোনো রকম কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া রাজউক থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধ দখলধার অনেকে পালিয়ে গেলেও উপস্থিত কয়েকজন ভুল স্বীকার করেছেন। রিভারভিউ, রৌদ্র ছোয়া এবং নবান্ন নামের এই ৩টি রেস্তোরাঁকে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়ে ৭ দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়। তবে রেস্তোরাঁগুলোর মালিক পক্ষের কেউই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি।
অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আরা বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জোন ৪/২ এর আওতাধীন পূর্বাচল ৩০০ফিট সংলগ্ন নীলা মার্কেট এলাকায় আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। এই এলাকার রাস্তা ও আবাসিক প্লটে অবৈধভাবে দখল করে বাণিজ্যিক দোকানসমূহ নির্মাণ করা হয়, যা সম্পূর্ণ রূপে অপসারণ করা হয়। অভিযান চলাকালীন স্থানীয়দের উপস্থিতিতে রাজউকের আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি চলমান প্রক্রিয়া যা ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে চলমান থাকবে।
জানা গেছে, এসব প্লট পূর্বাচল প্রকল্পের শুরুর সময় সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। যা এতদিন যাবত স্থানীয়দের দখলে ছিল।
মোবাইল কোর্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাজউক অথরাইজড অফিসার- ৪/২ ইমরুল হাসান। এ ছাড়াও সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক ও ইমারত পরিদর্শকরা, এছাড়াও জোন-৪/২ এর রাজউকের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।