বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোসহ সাত কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত আগস্ট মাসে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় সারা দেশে ৪২৬ জন নিহত ও ৭৬১ জন আহত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দুর্ঘটনার সংখ্যা কম বলেছে। তারা বলেছে, আগস্ট মাসে সারা দেশে ৩০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৪১৬ জন যাত্রী ও পথচারী।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল আরও জানিয়েছে, আগস্ট মাসে রেলপথে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত, ২৪ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, আহত ১১ এবং ২১ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৫০৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯৪ জন নিহত এবং ৮২৮ জন আহত হয়েছে। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১২৫টি, এতে ১২৬ জন নিহত ও ১৫৪ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে সিলেট বিভাগে ২২টি, মৃতের সংখ্যা ২০ জন।
গতকাল বুধবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য সাতটি কারণ চিহ্নিত করেছে। কারণগুলো হলো
১. দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচল। ২. মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার যানের ব্যাপক বৃদ্ধি। ৩. সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কে বাতি না থাকা । ৪. মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা। ৫. উলটোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন। ৬. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়াভাবে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো। ৭. রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তির গাফিলতি। ফিডার রোড এবং আঞ্চলিক রোড থেকে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা।
দুর্ঘটনার প্রতিরোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সাতটি সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো ১. মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা। ২. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান। ৩. ধীরগতির যান ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা। ৪. সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা। ৫. সড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং অঙ্কন করা। ৬. সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা। ৭. গণপরিবহন বিকশিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা ও নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
এ বিষয়ে সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করতে। মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলার পারমিট নেই। মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ করার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের।
বিআরটিএ-এর তথ্যমতে, রাজধানীতে মোটরসাইকেল বাদে যানবাহন রয়েছে ৫ লাখের বেশি। বিশালসংখ্যক এই পরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য মাত্র এক জন উপ-পরিচালক ও ১১ জন কর্মকর্তা নিয়ে কাজ করছেন। ফলে প্রকৃতপক্ষে ফিটনেস যাচাই করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।