ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের যাত্রীরা আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অপরাধী চক্রের মধ্যে রয়েছে আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও অপহরণকারী চক্রের সদস্য। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে চলছে ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ। চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও অপহরণকারী চক্রের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, ডাকাতি ও ছিনতাই শেষে অপরাধী চক্রের সদস্যরা নিরীহ যাত্রীদের খুন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে যাচ্ছে। আবার ঘটছে নারীদের ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা। পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসসহ ডাকাত, ছিনতাইকারী এবং অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে। কিন্তু জেল থেকে জামিনে এসে একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি এই মহাসড়কে র্যাব পরিচয়ে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মির্জাপুর থানা ও গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ এ বিষয়ে বলেছে, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক একটি ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এই রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক সময় অপরাধীরা নানা ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।
গোড়াই হাইওয়ে থানা ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। এই মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে কলকাতা, বেনাপোল, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাই, কুড়িগ্রাম, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন চলাচল করে আসছে। প্রতিদিন শতশত যানবাহনে হাজার হাজার যাত্রী রাতে ও দিনে চলাচল করে আসছে। রাত হলেই এই মহাসড়কে এক ভূতুড়ে পরিবেশ নেমে আসে। অপরাধীরা নানা কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে বাস ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ করে আসছে। এছাড়া মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে নিরীহ যাত্রীরা। এদের সঙ্গে নতুন করে এখন যোগ হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি।
বাসযাত্রীদের মধ্যে ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির, সঞ্জয় পালসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা কম থাকায় এই মহাসড়কে এ ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে ১৫ কিলোমিটার এলেঙ্গা এবং টাঙ্গাইল বাইপাস, করাতিপাড়া, করটিয়া, নাটিয়াপাড়া, পাকুল্যা, কদিমধল্যা, ইচাইল, চরপাড়া, কুমারজানি, দেওহাটা, কোদালিয়া, গোড়াই, বোর্ডঘর, কালিয়াকের এবং চন্দ্রা এলাকা অপরাধীদের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রিপন (২৬) নামে যুবককে গোড়াই থেকে অপহরণ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে পালানোর সময় আন্তঃজেলা ডাকাত ও অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার করে হাইওয়ে থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী ও ডাকাত দলের তিন সদস্য পালিয়ে যায়। অপহরণকারী দলের সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে অপহূত যুবককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শুভুল্যা এলাকা থেকে র্যাব পরিচয়ে হেলাল মোল্লা নামে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে। এই ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ অবশ্য প্রাইভেটকারসহ ১ লাখ টাকা ও দুই ভুয়া র্যাবকে গ্রেফতার করেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক দেখভাল করেন হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ। থানা পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে। প্রতি রাতে ও দিনের বেলায় থানা পুলিশ মহাসড়কে টহল দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।