বরের মা ও নানার কারাদণ্ড

বাল্য বিয়ে দেওয়ার অপরাধে নওগাঁর সাপাহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বরের মা ও নানার ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কল্যাণ চৌধুরী তার এই রায় প্রদান করেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পাতাড়ী ইউনিয়নের বড়বৈকন্ঠপুর গ্রামের বর রবিউল ইসলামের মা সামিনা বেগম (৪০) ও ছেলের নানা একই উপজেলার আইহাই ইউনিয়েনের ইউপি সদস্য ও মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ওসমান গনি (৬৬)।

জানা গেছে, উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের কলমুডাঙ্গা গ্রামের আকতারুল ইসলামের ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে খালেদা খাতুনের (১৫) সঙ্গে বড়বৈকন্ঠপুর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলামের (১৯) রেজিস্ট্রি ছাড়াই গ্রাম্য মৌলভীর সহযোগিতায় বুধবার রাতে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ে উপলক্ষে পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলের বাড়ি বড়বৈকন্ঠপুর গ্রামে খাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে গ্রাম্য মুরুব্বীসহ আত্নীয়-স্বজন এবং মেয়ে পক্ষের লোকজনেরাও এসেছিলেন । এ সময় বাল্য বিয়ের সংবাদ পেয়ে স্থানীয়রা সাপাহারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানান। তিনি দ্রুত থানা থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পঠিয়ে দেন।

সাপাহার থানার ওসি শামছুল আলম জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মেয়ে পক্ষের লোকজন,  আত্নীয়-স্বজন ও দাওয়াতি মেহমান দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে এ সময় বিয়ে বাড়ি থেকে ছেলের মা সামিনা বেগম ও ছেলের নানা ওসমান গনিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এ সময় আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেলে ও মেয়ের জম্মসনদ পর্যলোচনা করে অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেওয়ার অপরাধে ছেলের মা মিনা বেগম ও নানা ওসমান গনিকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর গরম তেলে ঝলসে যাওয়া স্বামীর মৃত্যু

ওসি আরও জানান, রায় শেষে পুলিশ বিকেলে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের নওগাঁ জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

ইত্তেফাক/নূহু