বাংলাদেশের একুশে পদক ও ভারতের পদ্মশ্রী পদকপ্রাপ্ত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির জয়াগ গ্রামের গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব, বিশিষ্ট সমাজসেবী ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। এই কীর্তিমান মহিয়সী নারী তার জীবদ্দশায় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সন্ধানী ডোনার ক্লাবে তার মরদেহ দান করে যান।
দুপুরে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের পরিচালক রাহা নব কুমার জানিয়েছেন, ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর মৃত্যুর পর সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়।
আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় সর্বশ্রেণীর মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হবে। পরে বিকাল ৩টার দিকে তার কর্মস্থল নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির জয়াগ গান্ধী আশ্রমে নেওয়া হবে মরদেহ। এখানে এলাকার সর্বস্তরে মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে। শেষে তার মরদেহ সন্ধানী ডোনার ক্লাবে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে তার মৃত্যুর খবরের জেলার সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার কর্মস্থল জয়াগ গান্ধী আশ্রমে ছুটে আসে সব ধর্মের হাজারো মানুষ। এ সময় তার সহকর্মীদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণা হয়।
ঝর্ণা ধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এ অবস্থায় ২ জুন ভোরে গান্ধী আশ্রমে তিনি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই দিন তাকে স্কয়ার হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। পরদিন তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তার অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে লাইফ সার্পোটে নেওয়া হয়।
জানা যায়, ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ২০১৩ সালে ভারতের বেসামরিক সম্মাননা পদক পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হন। সমাজসেবক হিসেবে তিনি ১৯৯৮সালে আন্তর্জাতিক বাজাজ, ২০০০সালে শান্তি পুরস্কার, ২০০১ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ ,২০০৩ সালে দুর্বার নেটওয়ার্ক, ২০১০সালে কীর্তিমতি নারী, ২০১৩ সালে রোকেয়া পদক ও সাদা মনের মানুষ, ২০১৫সালে একুশে পদকে ভুষিত হন।
এর আগে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভুষিত হয়েছেন।
তিনি ১৯৩৮ সালে ১৫ অক্টোবর বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। মহাত্মা গান্ধীর একনিষ্ঠ অনুসারী ও অহিংস মতবাদে বিশ্বাসী চির কুমারী এ মহিয়সী নারী সারা জীবন সমাজ ও মানব সেবায় নিজকে নিয়োজিত রেখেছেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, নিহত ২
গত ৪১বছর প্রশংসার সঙ্গে তিনি জয়াগ গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাদা মনের প্রশংসিত এ নারী এলাকায় ‘ঝর্ণাদি’ হিসেবে সব ধর্মের মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয় জন ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু