খুমেক হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ইউনিট বন্ধের উপক্রম

এনামুল হক, খুলনা অফিস

চিকিত্সকের অভাবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ইউনিট বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। এই ইউনিটগুলোতে নেই রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও মেডিক্যাল অফিসার। এ ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে গেলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ চিকিত্সা বাইরে থেকে করতে হিমশিম খেতে হবে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের। ফলে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডটি বিশেষায়িত সেবায় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে এই ওয়ার্ডের চারটি ইউনিটে চারটি বিশেষ রোগের সেবা বিনামূল্যে পেয়ে আসছে এ অঞ্চলের মানুষ। বিভাগগুলো হচ্ছে, হেপাটলজি বিভাগ বা লিভার বিভাগ, এন্ডাক্রলোজি বা হরমোন বিভাগ, থাইরয়েড ও ডায়াবেটিক বিভাগ, রেসপেটোরি মেডিসিন বা বক্ষব্যাধি বিভাগ এবং নিউরো মেডিসিন। হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ সার্ভিস চালু রাখতে বিশেষ কিছু সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা থাকতে হয়। তার মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, মেডিক্যাল অফিসার, সিনিয়র নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়াসহ আরো জনবল প্রয়োজন হয় আনুপাতিকহারে।

ইউনিটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক থাকলেও এখানে কোনো রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার বা মেডিক্যাল অফিসার নেই। অধ্যাপক বা সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিদিন রাউন্ড দেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করতে পারেন না। সার্বক্ষণিক একজন রোগীর চিকিত্সার ফলোআপ করার জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে একাধিক সহকারী রেজিস্ট্রার থাকলেও এই ওয়ার্ডটিতে কেউ নেই। চারটি ইউনিট মিলে একজন মাত্র চিকিত্সক থাকলেও সম্প্রতি তাকেও বদলি করায় চিকিত্সক শূন্য হয়ে পড়েছে এই ওয়ার্ডটি। এ ছাড়া ওয়ার্ডটিতে চিকিত্সক ছাড়া অন্যান্য জনবলও সংকট রয়েছে। ইতিমধ্যে সার্বক্ষণিক চিকিত্সক না থাকায় ছুটি দিয়ে অন্য ওয়ার্ডে লিভার বিভাগের কয়েকজন রোগীকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডটির স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে গেলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীরা। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে তাদের বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিত্সা করাতে হবে।

সম্প্রতি এ ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য হাসপাতালে যান নগরীর সোনাডাঙ্গা খাঁ বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলী খান। কিন্তু চিকিত্সকের অভাবে ওয়ার্ডটিতে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না শুনে তিনি হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। এখন অধিক অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই তার।

খুমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. কুতুব উদ্দিন মল্লিক বলেন, আমরা প্রফেসররা সার্বক্ষণিক রোগীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ওয়ার্ডটি চালু করেছিলাম। নিয়মিত রোগীদের চিকিত্সাও দিয়ে আসছি। কিন্তু চিকিত্সক ছাড়া এভাবে কোনো ওয়ার্ড চলতে পারে না। চিকিত্সকের অফিস সময় পরে একজন রোগীর কোনো সমস্যা হলে এর দায় কে নেবেন? রোগীরাতো তখন আমাদের উপর দোষ দেবেন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, চিকিত্সক সংকট হাসপাতালের সর্বত্র। আগের জনবল কাঠামোতে এ রকম ওয়ার্ড ছিল না। রোগীদের কথা চিন্তা করে ওয়ার্ডটি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চালু করা হয়েছে। সামনে নতুন জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিত্সক পেলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।