'চীনা অর্থায়ন', দিল্লিতে একাধিক সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি

ভারতের সংবাদ পোর্টাল নিউজক্লিকের কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে মঙ্গলবার ভোর থেকে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। অন্তত দুজন সাংবাদিককে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

এই পোর্টালটিতে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কাজকর্ম নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন তোলা হয় এবং ওখানে যারা নিয়মিত লেখেন, তাদের একটা বড় অংশই বিজেপি সরকারের সমালোচক বলে পরিচিত।

গত আগস্ট মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লিখেছিল যে অন্য আরও অনেক গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘নিউজক্লিক’-এ চীনা অর্থায়ন হয় ঘুরপথে। তারপরেই ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়।

দিল্লি পুলিশের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে তাদের স্পেশাল সেল একটি নতুন মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

আবার ভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভি বলছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরে গত ১৭ আগস্ট সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবারের তল্লাশি অভিযান সেই মামলার সূত্রেই চালানো হচ্ছে।

কিছুদিন আগে এই নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রকের তদন্ত শাখা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি এবং আয়কর বিভাগ পৃথক মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল। সেই মামলার তদন্তে নিউজক্লিকের দপ্তরে তল্লাশিও হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে ৩০টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ অভিসার শর্মা মঙ্গলবার সকালে এক্স-এ (আগেকার টুইটার) করে জানান যে দিল্লি পুলিশ তার বাড়িতে পৌঁছিয়েছে এবং তার ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছে।

এরপরে আরেক সাংবাদিক ভাষা সিং এক্স-এ লেখেন, এই ফোন থেকে শেষ টুইট। দিল্লি পুলিশ আমার ফোন বাজেয়াপ্ত করছে।

নিউজক্লিকের সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থকে তার বাড়ি থেকে দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

এবছর আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখে নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেটি আপডেট করা হয়েছে ১০ তারিখ।

সেখানে লেখা হয়, চীনের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য বিপুল অর্থ খরচ করা হয় বিভিন্ন মাধ্যমে। এগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে বিক্ষোভ-আন্দোলনকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দেওয়া, তেমনই রয়েছে গণমাধ্যমে অর্থায়ন।

তারা লিখেছে, এর মধ্যমণি হলেন একজন ক্যারিশ্মাটিক মার্কিন মিলিয়নিয়ার, নেভিল রয় সিংঘম। সিংঘম আদতে শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত, তবে তার বাবার সময় থেকেই তারা যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী। সিংঘম সাংহাইয়ে তার দপ্তর থেকে কাজ করেন বলে লিখেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তার বাবা আর্চিবল্ড সিংঘম একজন পরিচিত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী।

তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং জাল সংস্থাগুলির মাধ্যমে সিংঘম চীনা সরকারের মিডিয়া ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে থাকেন এবং বিশ্বব্যাপী তাদের প্রচার ব্যবস্থার অর্থায়ন করেন।

“ম্যাসাচুসেটসের একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে ম্যানহাটনের একটি সভাক্ষেত্র, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি রাজনৈতিক দল থেকে ভারত আর ব্রাজিলে সংবাদ সংস্থায় সিংঘমের সংস্থাগুলির মাধ্যমে কীভাবে কোটি কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে তা খুঁজে বার করা গেছে,” লিখেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রগতিশীলতার গুণগান করতে গিয়ে চীনা সরকারের বক্তব্যগুলি তুলে ধরা হয় ওই সব সংগঠনগুলির মাধ্যমে, জানিয়েছে ওই পত্রিকাটি। ওই প্রতিবেদনেই ভারতের নিউজক্লিকের নাম উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।