দুর্গা পূজায় বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মাদারীপুরের ডিসি-এসপির

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান এবং মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম খান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শারদীয় দুর্গা পূজায় কেউ বিশৃঙ্খলা চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে গত রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এবং গত বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৃথকভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে প্রস্তুতিমূলক সভায় তারা এসব কথাগুলো বলেন। 

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, আমরা সামাজিক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। এটা শুধু আমি চাইলেই হবে না, আপনাদের সকলকে বিশ্বাস করতে হবে। কেউ যেনো কোনো অবস্থাতেই উস্কানিমূলক কিছু করতে না পারে। আর যদি করেই ফেলে তাহলে তৎক্ষনাত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করবেন। আজকাল যা কিছুই ঘটুক, ফেসবুকে বিভিন্ন ভাবে সেটাকে উপস্থাপন করে একটি সমস্য সৃষ্টি করা হয়। আমরা সমাজে বসবাস করি, তাই দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সমাজের সবাই এখনো ফেরেশতা হয়নি। সুতরাং আমরা যেনো তাদের ফাঁদে পা না দেই। একজন চাচ্ছে যে, আপনারা রেগে যান, কোনো একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক। সে চাচ্ছে বলে একটা ক্লু দিলো আর আমরা ঝাঁপায় পরলাম, সেটা যাতে না হয়। এ বছর পূজা মন্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলায় প্রতিটি পূজা মন্ডবে সিসি ক্যামেরা লাগানো বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সূর্যাস্তের আগেই প্রতিমা বিসর্জন দে্য়ারর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে দেখবে। আজান, নামাজের সময় মাইক বন্ধ থাকবে। সাউন্ড স্পিকার ব্যবহার সীমিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি/সেক্রেটারী ও জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক থাকতে হবে।

Picsart_23-10-04_16-08-49-417

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, কয়েকদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা জানি আমাদের মাদারীপুরে এমন কিছু হবে না। কিন্তু সারা বাংলাদেশেই না হোক আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি। আমরা বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকবো। আমরা আপনাদের পাশে সব সময় আছি। যে কোনো প্রয়োজনে আপনারা যোগাযোগ করবেন। আর আমরা বিট পুলিশিংয়ে মিটিং করবো। এখানে সবাইকে রাখতে না পারলেও বিট পুলিশিংয়ের মিটিংয়ে সবাইকে রাখতে পারবো।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু দুর্গাপূজা নয়, কখনোই কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আগামি দুর্গাপূজায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকবে না। পূজামণ্ডপ ঘিরে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা বা উসকানি দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ভাস্কর সাহা বলেন, আগামী ২১শে অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ ধর্মীয় উৎসবে যে কোনো সংঘাত এড়াতে প্রতিটি পূজা মন্ডপ থাকবে কঠোর নজরদারীতে। এ বছর আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে মাদারীপুর জেলায় ৪৬২টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আবার দুই একটি বেশিও হতে পারে।

Picsart_23-10-04_16-12-28-084

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রানতোষ মণ্ডল বলেন, এ বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের দেওয়া সিদ্ধান্ত মেনেই পূজা উদযাপন করা হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিমা অরক্ষিত রেখে কেউ যেন ঘরে ঘুমিয়ে না থাকে সেদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মনিরুজ্জামান ফকির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আলাউল হাসান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) রব্বানী হোসেন, গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচএম সালাহ উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক বাবুল দাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্যামল দে, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিমল বাড়ৈ, সাংবাদিক প্রণব কুমার সাহা অপূর্বসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ছাড়াও আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।