সাহিত্য একাডেমির উপদেষ্টা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আসাদ চৌধুরী কানাডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় না ফেরার দেশে চলে যান। মৃত্যুকালে কবির বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন শোক জানিয়ে বলেন, কবি আসাদ চৌধুরী বাংলা একাডেমিতে চাকরি করার সময় সাহিত্য একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি সাহিত্য একাডেমির সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। সংগঠনের দীর্ঘ চল্লিশ বছরে আমরা তাকে কাছে পেয়েছি। তার মৃত্যুতে জাতির এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
কবি আসাদ চৌধুরী গত শতকের ষাটের দশক থেকে কবিতার পাশাপাশি লিখে গেছেন প্রবন্ধ, শিশুতোষ গল্প ও কবিতা, অনুবাদ, ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থ। কানাডার একটি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মধ্যপাড়া জুবিলী রোডে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সাহানা বেগমকে বিয়ে করেন। কবি আসাদ চৌধুরী ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাকেরগঞ্জ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬৪-১৯৭২ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীকালে ঢাকায় থিতু হওয়ার পর একাধিক খবরের কাগজে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। ১৯৮৫-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ভয়েজ অব জার্মানির বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা একাডেমিতে দীর্ঘকাল চাকরির পর পরিচালক হিসেবে অবসর নেন তিনি। কবি আসাদ চৌধুরী ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ২০১৩ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৭৫ সালে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'তবক দেওয়া পান' প্রকাশের পর বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- বিত্ত নাই বেসাত নাই, প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড়, জলের মধ্যে লেখাজোখা, যে পারে পারুক, মধ্য মাঠ থেকে মেঘের জুলুম পাখির জুলুম, দুঃখীরা গল্প করে, নদীও বিবস্ত্র হয়, বৃন্তির সংবাদে আমি কেউ নই, কিছু ফল আমি নিভিয়ে দিয়েছি, ঘরে ফেরা সোজা নয়, কবিতা-সমগ্র প্রভৃতি।
এছাড়াও শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন- রাজার নতুন জামা, রাজা বাদশার গল্প, গ্রাম বাংলার গল্প, ছোট্ট রাজপুত্র, সোনার খড়ম, ভিন দেশের মজার লোককাহিনী, তিন রসরাজের আড্ডা, কেশবতী রাজকন্যা, মুচি-জীবনী ও ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থগুলো হচ্ছে- সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু, রজনীকান্ত সেন, স্মৃতিসত্তায় যুগলবন্দী, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
অনুবাদগ্রন্থ বাড়ির কাছে ‘আরশিনগর: বাংলাদেশের উর্দু কবিতা’ এবং ‘প্যালেস্টাইন ও প্রতিবেশী দেশের প্রতিবাদী কবিতা’।
লেখালেখি ছড়াও আবৃত্তি এবং উপস্থাপনার জন্য অনেক জনপ্রিয় ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বরে আসাদ চৌধুরীর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এছাড়াও শ্বাসকষ্ট, কিডনিসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত কবি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে প্রায় হাসপাতাল থেকে হাসপাতালেই সংকটজনক অবস্থায় অবস্থান করছিলেন।