বিশ্ব শিক্ষক দিবস

তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে আনন্দঅশ্রু ঝরালেন ৩৭ জন শিক্ষক, পেলেন ‘শিক্ষাগুরু’ সম্মাননা

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়েছে শিক্ষা পরিবারে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সিংগাইর উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং প্রাথমিকের মোট ১৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপজেলা পরিষদ হল রুমে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথের সভাপতিত্বে র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রেহানা আকতার।

ছবি: রিপন আহসান ঋতু

বিশ্ব শিক্ষক দিবসকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্পাদনায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লেখায় ‘শিক্ষাগুরু’ শিরোনামে একটি সমৃদ্ধ একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। স্মরণিকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রেহানা আকতারের বাণী সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গত দুই বছরে উপজেলায় যেসকল শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘শিক্ষাগুরু’ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ছবি: রিপন আহসান ঋতু

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এমন ব্যতিক্রম আয়োজনে হঠাৎ ডাক পেয়ে বেশ আপ্লূত হয়ে পড়েন এসব শিক্ষকেরা।

সিংগাইর ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সামসুন নাহার খান তার বক্তব্যের সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, শিক্ষকরা অবসরে গেলে কেউ তেমন মনে রাখেন না, আজকে ইউএনও এই আয়োজনে আমি ভীষণভাবে সম্মানিতবোধ করছি। আমার যতটুকু মনে পড়ে এই উপজেলায় শিক্ষকদের নিয়ে এমন আয়োজন এবারই প্রথম। শিক্ষকদের ‘শিক্ষাগুরু’ শিরোনামে এই সম্মাননা প্রদানের চিন্তা অভিনব মনে হয়েছে। আমার ধারণা সারাদেশের মধ্যে আমাদের উপজেলায়ই কেবল এমন আয়োজন হয়েছে।

ছবি: রিপন আহসান ঋতু

অনুষ্ঠানে সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে অবসর নিয়েছি। আমার ছাত্ররা অনেক বড় পদে থেকেও যখন এসে সম্মান জানায়, মনে হয় শিক্ষকতা জীবন স্বার্থক হয়েছে। অবসরের পরেও আমাকে এমন একটি আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সম্মাননা জানানো হয়েছে, আমিই সত্যিই আপ্লুত। এমন আয়োজন দেখে আমার হচ্ছে আজকে সিংগাইর উপজেলার সকল শিক্ষকের আজ আনন্দের দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার তার বক্তৃতায় শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উপজেলা প্রশাসনের এমন আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষকের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের কথাকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে। একজন শিক্ষকই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তিনি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

ছবি: রিপন আহসান ঋতু

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ বলেন, আজকে এই আয়োজনে উপজেলার শিক্ষকদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে আমি মূলত আমার শিক্ষকদেরই সম্মান জানিয়েছি।

আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, সিংগাইর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতারা।

ছবি: রিপন আহসান ঋতু

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা। অনুষ্ঠানের শেষে ‘শিক্ষাগুরু’ শিরোনামে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আবু বক্কর সিদ্দিকীর ও জোহরা খাতুন।