অবৈধভাবে বসবাস করা আফগান নাগরিকদের উচ্ছেদ শুরু করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের ২০টি পরিবারকে নিয়ে ১৬টি ট্রাক তোরখাম সীমান্তে পৌঁছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা শেষ হওয়ার পরে ৩৫০ সদস্যের এই পরিবারগুলোকে আফগানিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ আফগান নাগরিকদের উচ্ছেদ শুরু করার পাশাপাশি তাদের অবৈধ বসতিও ভেঙে দিচ্ছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে রাজধানী ইসলামাবাদের মারগাল্লা টাউনের কাছে অবৈধ আফগান বসতি ভেঙে দিয়েছে ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ)। ইসলামাবাদে প্রায় দুই মাস ধরে অবৈধ আফগান বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
পুলিশের মুখপাত্রের মতে, বিভিন্ন অভিযানে ১ হাজার ১২৬ জনকে তল্লাশি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে, বৈধ নথি দেখাতে সক্ষম হওয়ায় ৬২৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ৫০৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই ৫০৩ জনকে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় বিভিন্ন আদালতে হাজির করা হচ্ছে। মোট ২২ হাজার আফগান নাগরিক ইসলামাবাদে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ১৭ লাখ ৩০ হাজার আফগান অভিবাসীকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ দেয় দেশটির সরকার। গত মঙ্গলবার দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার উল হক কাকার এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তত্ত্বাবধায়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। সংবাদ সম্মেলনে বুগতি বলেন, আমাদের কাছে যে কোনো দেশ বা তার নীতির চাইতে পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে এই প্রথম আমরা এমন কোনো আদেশ দিচ্ছি। সে সময় তিনি আরো বলেন, অক্টোবরের মধ্যে সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। এরপর থেকে অভিযানে নামবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় যদি কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশাকারী ধরা পড়েন, তাহলে তাদেরকে জোর করে নিজেদের দেশে পাঠানো হবে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, ৩১ অক্টোবরের সময়সীমার মধ্যে দেশ ছেড়ে না গেলে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন শুরু হবে। এ বিষয়ে ফেডারেল পুলিশ কর্মকর্তা এবং ইসলামাবাদে আফগান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বিশেষ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে যে, আফগান নাগরিকদের যাদের পাকিস্তানে বসবাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অবৈধভাবে বসবাসরত আফগানদের উচ্ছেদের চূড়ান্ত কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করতে আগামী সপ্তাহে সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। চলতি বছর পাকিস্তানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশটির থিংকট্যাংক সংস্থা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৭১টি আত্মঘাতী, বোমা ও বন্দুক হামলা ঘটেছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত তালেবানপন্থি দল তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে এসব হামলা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।