দুই দিনের সামিট শেষ 

দেশে ১৪ লাখ সদস্যের পরিবারে পরিণত হয়েছে উই

নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করা দেশের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রাস্ট (উই) এবারও ‘উই-জয়ী’ পুরস্কার ও সম্মাননা দিয়েছে। ৬ ও ৭ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ উই সামিটের সমাপনী দিন শনিবার (৭ অক্টোবর) ২০ জন নারীর হাতে এই পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এই পুরস্কার তুলে দেন। সারা দেশ থেকে আসা ই-কমার্স খাতের সঙ্গে যুক্ত নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুক্রবার ‘উইমেন ই-কমার্স এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সামিট (উই সামিট) ২০২৩’ উদ্বোধন করা হয়।  

উইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবং এবারের উই সামিটের আহ্বায়ক নাসিমা আক্তার নিশার সভাপতিত্বে উই জয়ী অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, সিসিএ’র কন্ট্রোলার এ টি এম জিয়াউল ইসলাম, ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, দারাজের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) খন্দকার তাসফিন আলম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেন, নারীরা সমাজের অর্ধেক। এই অর্ধেককে এগিয়ে নিতে না পারলে, তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারলে কোনো দেশই এগিয়ে যেতে পারবে না। নারীরা এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। নারীদের এগিয়ে নিতে সেইসব সহযোগিতাসহ নানা উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে উই।

উইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, প্রতিবছরই সামিটের সময় উই-জয়ী পুরস্কার প্রদান করে। এবার দেশের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখা ১০ জন নারীকে জয়ী সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উইয়ের সদস্যদের মধ্য থেকে ১০ নারী উদ্যোক্তাকে জয়ী পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

শমী কায়সার বলেন, বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের যে কল্যাণ হয়েছে তা উইয়ের অগ্রণী ভূমিকার মাধ্যমে হয়েছে। আমাদের এখন প্রয়োজন বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের সফলতাকে তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডিং করা। 

উই সামিটের সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে জয়ী পুরস্কার ও সম্মাননা বিজয়ী প্রত্যেককে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট), উত্তরীয়, সনদ এবং উপহার প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, উই উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের নারী সমাজকে জাগ্রত করেছে। রক্ষণশীলতা ও মৌলবাদকে রুখে দিয়ে নারীদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অর্থনীতি গড়তে দেশে বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। তিনি বলেন, উই বাংলাদেশী পণ্যের সবচেয়ে সফল প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মমর্যাদা সৃষ্টিতে ই-কমার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন ১৪ লাখ সদস্যের পরিবারে পরিণত হয়েছে উই। করোনাকালে ই-কমার্স ছিলো আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন।