বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অতিরিক্ত সচিবের বাতবিতণ্ডা, যাচাই বাছাই নিয়ে হট্টগোল

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এসএম মাহবুবুর রহমান বলেছেন, আমার জন্ম না হলে মুক্তিযোদ্ধাদের এই যাচাই-বাছাই হতো না। আমার মতো ভালো কর্মকর্তা আর নেই। তার এই বক্তব্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ এবং প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। 

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) জামালপুরের মেলান্দহে মির্জা আজম আধুনিক অডিটোরিয়ামে ডি ক্যাটাগরি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

জানা গেছে, দুপুরে যাচাই বাছাইয়ের শুরুতেই মাহবুবুর রহমান সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সুজায়াত আলী ফকিরের সঙ্গে বিতর্কে জড়ালে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিবাদ করেন। এ সময় তিনি যাচাই বাছাই কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণ পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম মিঞা এবং সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সৈয়দ হারুন অর রশিদের মধ্যস্থতায় আবারও যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু করেন।

সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাংগঠনিক কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম বাবু, জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেন, মাহবুব সাহেব বক্তব্যে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপনা করেছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা জানি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন দেশ পেতাম না। তার (মাহবুব রহমান) আত্মঅহমিকাপূর্ণ এই বক্তব্যে আমরা হতবাক। 
 
সন্ধ্যার আগে যাচাই বাছাই শেষে অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে অহেতুক তর্কে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য শাসিয়ে দেন। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে সাংবাদিক এবং মুক্তিযোদ্ধারাও হতবাক হন।

যাচাই বাছাই শেষে এ বিষয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ে গণমাধ্যকর্মী এবং মুক্তিযোদ্ধারা মাহবুবুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমি যোগদানের আগের তিন বছর কেন যাচাই বাছাই করা হলো না। এই তিন বছর কোথায় ছিলেন?
 
ইউএনও সেলিম মিঞা বলেন, বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিন। এ নিয়ে আমরা পরে বসবো।