দেবীদ্বারে ব্যক্তি বিরোধের জেরে বন্ধ রাস্তা সংস্কারের কাজ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে বন্ধ হয়ে আছে শতবর্ষী একটি রাস্তার সংস্কারকাজ। সরকারি বরাদ্দে কাজ শুরু হলেও তাতে বাধা প্রদান করে বন্ধ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। এতে কয়েক হাজার মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বক্রিকান্দি গ্রামের। রাস্তাটিতে একশ বছর ধরে চলাচল করছে গ্রামের মানুষ। এটি গ্রামের একমাত্র পথ হওয়ায় গ্রামবাসী এখন অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন। সংস্কার কাজ বন্ধের পাশাপাশি রাস্তার পানি নিষ্কাশনের পাইপের মুখও বন্ধ রয়েছে। ফলে টানা বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে রাস্তাটি। দেখে এখন আর একে সড়ক বলার উপায় নেই, বরং মনে হচ্ছে যেন বড় এক জলাশয়!

জানা গেছে, বক্রিকান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ইয়াকুব সরকার ও স্থানীয় আরিফের মধ্যে রাস্তা সংলগ্ন একটি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউছার আহাম্মদ ভূঁইয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমিন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আরিফের পক্ষ নেয়। বক্রিকান্দি গ্রাম থেকে তেবারিয়া বাজার পর্যন্ত গ্রামবাসীর চলাচলের শতবর্ষী রাস্তাটি পাকাকরণের কাজে বাধা প্রদান করে তারা। ফলে বন্ধ হয়ে আছে সরকারি অর্থায়নে চলমান এ নির্মাণকাজ। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনাছ জানান, গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য এটিই একমাত্র রাস্তা। তাই এই রাস্তা দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, ও রোগী যাতায়াত করে। কাউছার ও মমিন ভূঁইয়ারা অন্যায়ভাবে সরকারি কাজকে বাধা দিয়েই থেমে থাকেনি, এ রাস্তা দিয়ে যেন কোনো মানুষ চলাফেরা করতে না পারে তার জন্য লাঠিয়াল বাহিনীও প্রস্তুত রেখেছে। যদি কেউ জরুরি প্রয়োজনে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে তাহলে তাকে হেনস্থা করা হয়। এ পর্যন্ত তারা কাদের সরকার, জহির ও বিল্লালসহ স্থানীয় কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করেছে। রহিম সরকার নামের একজনকে পিটিয়ে দুই পা ও হাত ভেঙে দিয়েছে। দেবীদ্বার থানায় মামলাও হয়েছে এ ঘটনায়। 

সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বক্রিকান্দি গ্রামের এই রাস্তাটি পাকাকরণের অঙ্গীকার করেছিলেন স্থানীয় এমপি রাজি মুহাম্মদ ফখরুল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে এর জন্য বরাদ্দ আসে। করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও ২০২২ সালের শুরু দিকে রাস্তাটির কাজ আবারও শুরু হয়। পুরো রাস্তায় কোনো সমস্যা নেই, শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে একটু অংশে বক্রিকান্দি গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির কাউছার ও মমিন ভূঁইয়া রাস্তার কাজে বাধা প্রদান করেন। 

তিনি বলেন, এটি একটি শতবর্ষী রাস্তা। উল্লিখিত ব্যক্তিরা ২০২৩ সালের মে মাসে একটি হেবা দলিল মূলে রাস্তার এই অংশটির মালিকানা দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার ওসি একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানা বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে সরকারি রাস্তার কাজ বন্ধ ছিল এমন অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুতই উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে রাস্তার সমস্যা সমাধান করা হবে।