সুকুমার রায় সম্পর্কে একটি কথা বহুল প্রচলিত। তিনি লিখেছেন শিশুদের জন্য। তবে তার লেখা পড়ে আনন্দ পায় বড়রাও। শিশুতোষ লেখার মধ্যেও যে গভীর ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে সে অদ্ভুত শব্দমাল্যের ভান্ডারের সন্ধান দেন সুকুমার রায়। শিশুদের জন্য লিখতে গিয়ে কত আজগুবি চরিত্রই না গড়ে তুলেছেন–কাঠ বুড়ো, ট্যাশগরু, সৎপাত্র অথবা রামগরুড়ের ছানা। জনপ্রিয় সব চরিত্র এবার ধরা পড়েছে লাল-নীল রংয়ে। সুকুমার রায়ের শিশুতোষ গ্রন্থে স্থান পাওয়া লেখার সঙ্গে যে অলংকরণ, তাদের ভিন্নরূপে উপস্থাপন করেছেন ভারতীয় শিল্পী অনিন্দ্য কান্তি বিশ্বাস।
৯ অক্টোবর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে উদ্বোধন করা হয় দূর্দান্ত এক প্রদর্শনীর। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন শিল্পী ও অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, কার্টুনিস্ট শিশির ভট্টাচার্য্য, অধ্যাপক সুশান্ত কুমার অধিকারী, অধ্যাপক পরাগ রায়, অধ্যাপক মলয় চন্দন মুখোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পরই সুকুমার রায়কে চেনার উৎসব হয় শুরু।
অধ্যাপক আবদুস সাত্তার বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই সাহিত্যিককে নতুনভাবে চেনার সুযোগ পাবে নতুন এই প্রজন্ম।
কার্টুনিষ্ট শিশির ভট্টাচার্য্য বলেন, এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের প্রদর্শনীটি দেখা দরকার।
শিল্পী অনিন্দ্য কান্তি বিশ্বাস বলেন, কথাও যে ছবি হতে পারে, তা-ই শিখিয়েছেন সুকুমার রায়।
জয়নুল আর্ট গ্যালারির প্রদর্শনীতে সাদা-কালো ছবিগুলোর স্বভাব আগের মতো বজায় রেখে শিল্পী যুক্ত করেছেন নিজের ভাবনা। কখনো 'পাগলা বিশুর গায়ে লাল ডোরা দাগের ফতুয়া আর আকাশি লুঙ্গি, কখনো 'গানের গুঁতো'য় দুই সংগীতশিল্পীর পোশাক চেহারা- সবই হয়েছে সমকালীন। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ৩৯টি ছবির সবই রং- তুলিতে আঁকা। সূক্ষ্ম কাজের টান দেখে কলমের আঁচড় বলে মনে হয়, সেগুলোও শিল্পীর তুলি দিয়ে দেওয়া দাগ।
সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালে। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। সুকুমার রায়ের শততম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এ কলকাতার কালিগঞ্জের চিত্রকূট আর্ট গ্যালারিতে দুই দিনের প্রদর্শনী আগেই করা হয়েছিল। এবার বাংলাদেশে এসে সুকুমার রায়কে নতুনভাবে চেনার সুযোগ পাওয়া গেলো। শব্দে তিনি যে ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন তাকে শুধু বাস্তব করেছেন। আজই শেষ দিন। চলে আসুন।
বরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের বাবা সুকুমার রায় নিজের স্বপ্নস্থায়ী জীবনেও দেখিয়ে গেছেন প্রতিভার শ্রেষ্ঠ বিকাশ। সন্দেশ-এর সম্পাদক থাকাকালীন তাঁর লেখা ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধ আজও বাংলা শিশুসাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। তবে তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছানোর অনেক কাজ আজও বাকি। সে দায়িত্ব কি ভোলা যাবে?