ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ: শীর্ষ দুই পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক সময়ের ক্যান্টনমেন্ট বলা হতো ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগকে। ছাত্রলীগের এই ইউনিটের আছে নানা গৌরবগাঁথা ইতিহাস। প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলন সংগ্রামে বরাবরই ঢাকা কলেজ রাজপথে সরব ছিলো। এই ইউনিটের সাবেক ছাত্র নেতারা ছাত্র রাজনীতির পর জাতীয় রাজনীতিতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

এমন ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটে দীর্ঘদিন থেকে কমিটি নেই। কমিটি না থাকার ফলে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ তাদের পুরানো ছাত্ররাজনীতের জৌলুস হারাতে বসেছে। ছাত্রলীগের এই ইউনিটে কমিটি দেওয়া নিয়ে প্রতিবারই এক ধরণের অনীহা লক্ষ্য করা গিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে। 

সর্বশেষ ২০১২ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হলে ওই বছর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তারপর কেটে গেছে অনেক বছর। কমিটি পাবার আশায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে এখনো যুক্ত আছেন অনেকেই। 

আবার অনেকে আশাহত হয়ে রাজনীতি ছেড়েছেন। তবে এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসা দুই শীর্ষ নেতা সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান আবারও এই ঢাকা কলেজ শাখার নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে সিভি আহ্বান করা হয়। গত মাসের শেষ দিকে একটি কর্মীসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ফলে শাখা ছাত্রলীগরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচঞ্চলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কলেজ শাখা ছাত্রলীগর দুই শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা নেতৃত্বে আসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। এই দৌড়ে আছেন বিতর্কিত ও বয়স উত্তীর্ণরাও।

ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ’র তথ্য মতে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ পদের জন্য ৩৫০ এর অধিক সিভি জমা পড়েছে। 

নেতৃত্বে আলোচিতদের মধ্যে আছেন নিশাত মৃধা, মুহাম্মদ আনজির হোসাইন, ইমরান হাসান নাজির, সাহিন সাদেক মির্জা, মো. জাহিদ। এ ছাড়াও খাইরুল হাসু, লিখন সরকার, নিজামুল ইসলাম নিপু, কাউসার হাসান কায়েস, আমিনুল ইসলাম, আনান, মো. মাসুম, মহিউদ্দিন মাহী, মৃদুল, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, শেখ মিঠুন, মো. জসিম, জুলফিকার, ফিরোজ হোসেন, জনি হাসান। 

ঢাকা কলেজে দীর্ঘদিন থেকে কমিটি না থাকায় নেতৃত্বে আলোচিতদের অনেকের বয়স উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কারও বয়স ২৯ বছরের অধিক হলে তিনি সে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। আবার দীর্ঘদিন কমিটি না থাকাতে ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় এই ছাত্র নেতাদের কারও কারও বিরুদ্ধে ছিনতাই চাঁদাবজি ও অপহরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। 

এদের মধ্যে জনি হাসানকে অপহরণের অভিযোগে নিউ মার্কেট থানা গ্রেপ্তার ও আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ড দেয়। 

এ ছাড়াও কাউসার, লিখন, আনান, নিপু, আমিনুর, মৃদুল, রাশেদ, জসিমের বয়স ইতিমধ্যে ২৯ পেরিয়েছে। 

এছাড়া জসিম ও লিখনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে সাংবাদিক মারধরের অভিযোগ ও উঠেছে। অন্যদিকে নিশাত, আনজিরসহ অনেকেই করোনাকালীন ক্যাম্পাস এলাকায় মানুষদের খাবার সরবরাহ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে জসিম, জনি, হাসু, রাশেদদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।
 
এই বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা দ্রুতই কমিটি ঘোষণা করবো। বয়স উত্তীর্ণ পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সার্বিক দিক বিবেচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিবো।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবো। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি বর্ণ্যাঢ্য ও সুসংগঠিত ইউনিট। কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব, সংগঠনের প্রতি একনিষ্ঠতা ও সার্বিক যোগত্যকার ভিত্তিতে আমরা কমিটি গঠন করবো।