মেয়েদের চলার পথ আরও বেশি সুগম ও মসৃণ করার জন্য তাদেরকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে গড়ে তুলতে হবে। আত্মরক্ষার কৌশল জানা মেয়েরা সে ক্ষেত্রে অনেকবেশী অগ্রগামী থাকেন। কারাতে আত্মরক্ষার শেখার জন্য খুব ভালো একটি মাধ্যম।
সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে দুদিনব্যাপী কারাতে প্রশিক্ষণ সিংগাইর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
‘কারাতে’ শব্দের অর্থ হলো ‘খালুই হাতে’। অর্থাৎ খালি হাতে কীভাবে যেকোনো বিপদ থেকে কৌশলের মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া যায় তা শেখায় কারাতে প্রশিক্ষণ। বিভিন্ন বাস্তবতায় মেয়েরাই বেশি বিপদের ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির প্রায় ৪০ জন মেয়ে শিশুকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
কারাতে প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা তাদের মেয়েকে আত্মরক্কার কৌশল শেখার প্রশিক্ষণে দিতে পেরে নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করছেন। কারণ তারা আশপাশে বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।
সিংগাইর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আরা ভূইয়া বলেন, আমাদের মেয়েদের চলার পথ নিরাপদ করতে হলে তাদেরকে নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে। সঙ্গত কারণেই মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখার কার্যক্রম প্রাথমিক জীবনেই শুরু করতে হবে। আমার স্কুলের মেয়েদেরকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখার কার্যক্রমে সুযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
সিংগাইর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক ও ব্ল্যাকবেল্ট প্রাপ্ত প্রশিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি কারাতে শিখাতে অনুরোধ করলেও সমন্বিতভাবে শুরু করার উদ্যোগের অভাবে এতোদিন এই প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়নি। কিন্তু মেয়েদের আত্মরক্ষার জন্য কিছু কৌশল জানা থাকলে সহজে অনেক বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে। তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় আমাকে বলার সাথে সাথেই আমি রাজী হয়েছি।
সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দীকি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এই অসাধারণ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমি আমার স্কুলে বলার সাথেই সাথেই অসংখ্য শিক্ষার্থী আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিভাবকরাও খুবই খুশি।
উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর ও এই প্রশিক্ষণের ফোকাল পার্সন জোহরা খাতুন বলেন, আমার মেয়ে গত একবছর ধরে কারাতে শিখে। আমি দেখেছি কীভাবে তার মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে। শারীরিক সুস্থতার জন্যও কারাতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এই প্রশিক্ষণের উদ্যোক্তা দিপন দেবনাথ, আমরা চাই আমাদের মেয়েরা আত্মশক্তিতে বলিয়ান হোক। নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল জানা থাকলে যেকোনো কাজে তাদের মনোবল অনেকগুণ বেড়ে যাবে। ইভিটিজিংযের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলেও এই প্রশিক্ষণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এখন থেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে, যে রাঁধে, যে চুল বাঁধে, সে কারাতেও শিখে, সে দেশও পরিচালনা করে।