ঝালকাঠির নলছিটিতে ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ব্যপকহারে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে আসছেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানিরা ২০টাকার পণ্য ক্রয় করলেও ক্রেতাকে ধরিয়ে দিচ্ছেন একটি পলিথিনের ব্যাগ। পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির এই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ শহরের পয়ঃনিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতাসহ নানান সমস্যার সৃষ্টি করছে।
নলছিটির মাছবাজার, সবজিবাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি দোকানে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগ। কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে পলিথিনের বিভিন্ন সাইজের ব্যাগ। এটা যে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ তা কেউ আমলেই নিচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা তাইফুর রহমান জানান, পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাওয়ার কারণ হলো পাশেই যে ড্রেনেজ সিষ্টেম রয়েছে তার ভেতর পলিথিনের বিভিন্ন আকারের ব্যাগ আটকে আছে, যার কারণে পানি ড্রেনে যাচ্ছে না। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা উচিৎ। এতে পরিবেশও ভালো থাকবে আমরাও ঝামেলা থেকে মুক্তি পাব।
ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, ক্রেতারা সঙ্গে করে বাজারের ব্যাগ নিয়ে না আসায় আমাদেরকেই ব্যাগ দিতে হয়। এক্ষেত্রে দামে সস্তা হওয়ায় পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করি। প্রতিদিন শত শত ক্রেতা আসেন যাদের বেশিরভাগ ব্যাগ ছাড়াই আসেন । তাই ব্যয়ের কথা চিন্তা করে তাদের অন্য কোনো ব্যাগ দেওয়া যায় না। তবে এটা সত্য যে, পলি দিয়ে তৈরি যে কোনো পণ্যই পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তা হয়তো অনেকেই জানে।’
বিডি ক্লিন সদস্য নাইম মল্লিক বলেন, ‘আমরা বিডি ক্লিন সদস্যরা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কোথাও গেলে যেখানে অধিকাংশ পাওয়া যায় পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ, যা সহজে পচে মাটিতে মিশে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমাদের নগর জীবনে ও কৃষি খাতে। পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কারা কালোবাজারে এই ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণন করছে, তা সরকারের আরও কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে এর ব্যবহারে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারের পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, সে সম্পর্কে আরও প্রচারণা করতে হবে। পাশাপাশি পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধাসমূহের প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহারে সাধারণকে নিরুত্সাহিত করতে প্রচারণা বৃদ্ধি করা হবে। যারা পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।