আর মাত্র চারদিন পরেই সনাতন সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ঈশ্বরদীসহ আশেপাশের মন্দিরগুলোতে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী ও কারিগররা। একমাটি ও দো-মাটির কাজ শেষ করে শেষ মুহূর্তে শুরু হয়েছে প্রতিমা রঙয়ের কাজ। সনাতনি পদ্ধতিতে তুলি দিয়ে রঙ এর স্থান দখল করেছে স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন ধরণের আধুনিক যন্ত্র। তবে প্রতিমার চোখসহ মুখমণ্ডল এখনো হাত দিয়ে তুলিতেই রঙ হচ্ছে।
সমাজের সব স্তরের মানুষকে একত্রিত করে মহাসম্মেলন ঘটে বাঙালির সার্বজনীয় পূজায়। শারদের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা কড়া নাড়ছে বাঙালির দুয়ারে দুয়ারে। এর মধ্যেই মা দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে খড়, কাঠ ও কাদামাটির কাজ শেষ করে চলছে রংয়ের কাজ। নিখুঁতভাবে প্রতিমার মুখের অবয়ব রং-তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ রয়েছে শিল্পীদের।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে শিল্পী-কারিগরদের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে প্রতিমা শিল্পী গণেন পাল বলেন, ‘প্রতিমার মাটির কাজ শেষে এখন চলছে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিমার রঙের কাজ শেষ হবে। এখন খুব ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে। খাওয়ার সময়ও নেই। সময় যেহেতু শেষের দিকে, তাই এখানে দ্রুত কাজ শেষ করে কমিটির কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে।’
আরেক কারিগর সঞ্জিব পাল বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করে আসছি। বছরে ৩-৪ মাস এই কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়েই আমাদের সংসার চালাতে হয়। তবে যেভাবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়ছে, সে তুলনায় আয় নেই।’
ঈশ্বরদীতে ৩২টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় ১৭৫ বছরের প্রাচীনতম মৌবাড়ি দুর্গা মন্দিরে রীতি অনুযায়ী রবিবার প্রতিপদে ঘট স্থাপন করে পূজা শুরু হয়ে গেছে। ব্যতিক্রমী এই মন্দিরে আদিকাল হতে ২২ পুতুলের প্রতিমা হয়। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি যুগে সনাতন ধর্মের অবতার পুরুষদের মূর্তি দেবী দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে আসনে স্থান পেয়ে পূজা গ্রহণ করেন। আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে প্রতিমা আসনে অধিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে সর্বত্র শুরু হবে মহোৎসব। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের এই উৎসব।
ইউএনও সুবির কুমার দাশ মন্দিরগুলো পরিদর্শন করে সব প্রস্তুতির খোঁজখবর করছেন। রবিবার ঠাকুরবাড়ি সত্য নারায়ণ মন্দির পরিদর্শনকালে বলেন, ‘সব মন্দিরে সিসিটিভি ও আইপি ক্যামেরা বসানোর জন্য বলা হয়েছে। উপজেলার কর্মকর্তাদের দিয়ে টিম তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি প্রস্তুত রয়েছে। কন্ট্রোল রূম থেকে সার্বক্ষনিক তদারকি করা হবে।’
ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, ‘থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। আমাদের সাদা পোশাকের পুলিশ সার্বণিক পর্যবেক্ষণ করছে, দিনে-রাতে টহল দিচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিট ভাগ করে পুলিশের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে।’