বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির কুমির উদ্ধার খুলনা বন্যপ্রাণি উদ্ধারকারী দলের

বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির একটি কুমির উদ্ধার করেছে খুলনার বন্যপ্রাণি উদ্ধারকারী দল। সাড়ে সাত ফুট লম্বা কুমিরটিকে নগরীর বয়রাস্থ বন্যপ্রাণি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। 

আগামী কয়েক কুমিরটিকে দেওয়া হবে চিকিৎসা। এরপর তাকে কোনো নিরাপদ নদী বা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ফরিদপুরের একটি নদী থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে রাতে খুলনায় আনা হয়।
   
খুলনা বন্যপ্রাণি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আঙ্গুর হোসেন সরকার জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে ফরিদপুরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়ার ভুবনেশ্বর নদ থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে কয়েকদিন ধরে নদীতে ঐ এলাকায় কুমিরটি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে খুলনার বন্যপ্রাণি উদ্ধারকারী দলকে খবর দেয়। মঙ্গলবার নদীতে হঠাৎ কুমিরটি ভেসে উঠলে জাল দিয়ে পুরা এলাকা ঘিরে ফেলে হয়। অনেক সময় চেষ্টার পর কুমিরটি ধরা পড়ে। কুমির আতঙ্কে স্থানীয় প্রশাসন ঐ নদীতে মানুষের গোসল-মাছধরা বন্ধ করে দেয়।

খুলনা বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নির্মল কুমার পাল বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি মিঠা পানির কুমির। এরপর আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে এটি লোনা পানির কুমির কি-না। 

তিনি আরও বলেন, যদি মিঠা পানির কুমির হয়- তাহলে এই প্রজাতি বিলুপ্ত প্রায়। তবে যদি এটি লোনা পানির কুমির হয়- তাহলে সুন্দরবনের কোনো নদনদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে যদি কুমিরটি মিঠা পানির হয়- তাহলে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক অথবা অন্য কোথাও ছাড়া হতে পারে।
 
তিনি জানান, এটি একটি পুরুষ প্রজাতির কুমির। লম্বায় প্রায় সাড়ে সাত ফুট। কুমিরটির শারীরিক অবস্থা ভালো আছে; তারপরও তাকে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।