উল্কার গতিতে ঘুরে গেলেন রোনালদিনহো

বিশাল স্ক্রিনে বারবার ভেসে উঠছিল ম্যাজিকাল নাইট উইথ দি ফুটবল লিজেন্ড রোনালদিনহো। তা জাদুর রাতই বটে! তার জাদুকরি পায়ের ছোঁয়ায় বার্সেলোনা জিতেছে স্প্যানিশ লিগ। জিতেছেন ব্যালন ডি'অর। স্প্যানিশ কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ। এত এত অর্জন তো সবই এসেছে রোনালদিনহোর জাদুকরি পায়ের কারিকুরিতে। সেই রোনালদিনহো গতকাল এসেছেন ঢাকায়। দুপুর সাড়ে ৩টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে যখন হোটেল রেডিসনে এসে পৌঁছালেন, মুখে লেগে ছিল সেই চিরচেনা হাসি। মাথায় টুপি। গলায় ক্রুসের লকেট দেওয়া লম্বা চেইন। কালো প্যান্ট। হালকা পেস্ট কালারের টি-শার্ট। পিঠে ঝোলানো ব্যাগ। একেবারেই সাদামাটা লাগলো ফুটবল কিংবদন্তিকে। 

সাদা প্রাডো গাড়ি থেকে হোটেলের লবিতে নামলেন ব্রাজিলের তারকা রোনালদিনহো। যদিও শারীরিকভাবে কিছুটা মুটিয়ে গেছেন। কিন্তু ৪৩ বছর বয়সী রোনালদিনহোকে দেখে যেন মনে হচ্ছিল এখনো গোলরক্ষকদের জন্য আতঙ্ক! মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে পারবেন। রোনালদিনহোকে মূলত ঢাকায় এনেছে দুটি  বিজ্ঞাপনী সংস্থা ক্রিয়েশন ওয়ার্ল্ড ও অফ ট্র্যাক। গত জুলাইয়ে ঢাকা এসেছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তাকে এনেছিলেন কলকাতার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা শতদ্রু দত্ত। এবারও তার মাধ্যমে ঢাকায় আসেন রোনালদিনহো।

নীরবে-নিভৃতে বিমান বন্দর থেকে বেরিয়ে এলেও দুপুরে হোটেলে বেশ কিছু সমর্থকের ভিড় দেখা গেল। ২০০২ থেকে ২০২৩-সময়টা ২১ বছরের। বিশ্বকাপ জয়ের সময় রোনালদিনহো ছিলেন ২২ বছরের টগবগে তরুণ। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি একটি প্রজন্মের কাছে অচেনা। তাই হয়তো সমর্থকদের মধ্যে তাকে নিয়ে তেমন কোনো কাড়াকাড়ি ছিল না। হয়তো দর্শক ভাটা পড়েছে তার কারাবন্দীর নেতিবাচক বিষয়টিতেও। তারপরও ছিল ফ্ল্যাশ লাইটের আলোর ঝলকানি। বিকাল ৪টায় হোটেলে আসার পর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় চলে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর আবার চলে আসেন হোটেল রেডিসনে। এরপর এক ঘণ্টার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নীরবে রাতেই ঢাকা ছেড়ে যান রোনালদিনহো।

বর্তমান সময়ে সবাই লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ নিয়েই তর্কে জড়ান। কিন্তু এ দুই তারকার আগে ফুটবল বিশ্বে রোনালদিনহোই ছিলেন সর্বেসর্বা। নাইট ক্লাব, শৃঙ্খলাহীন জীবনে জড়িয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিভাবান তারকা হারিয়ে গেলেও তার চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং ভক্তদের মণি কোঠায় আজও অমলিন রোনালদিনহো। তাই দেশ, ক্লাব, ভিন্ন হলেও ২০১৫ সালে অবসর নেওয়া সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জনপ্রিয়তা সবার কাছেই ছিল সমান। রোনালদিনহোকে নিয়ে রেডিসন হোটেলে রাতে রোনালদিনহোর সম্মানে ছোট্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আয়োজকদের অসদাচরণ

রোনালদিনহোকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজকরা গণমাধ্যমের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেছেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা ঘোষণা দেন কোনো গণমাধ্যমকর্মী এখানে বসতে পারবে না। অনুষ্ঠানস্থলে গণমাধ্যমকে বসতে না দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেন। আয়োজক কর্তৃপক্ষের লোকজনরা ভালো আচরণও করেননি। প্রতিবাদে প্রায় ২০০ গণমাধ্যম অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। যদিও কর্তৃপক্ষ পরে দুঃখপ্রকাশ করেছিল কিন্তু সাংবাদিকরা সেটা মেনে নেয়নি। এমনকি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সুরাহা করার চেষ্টা করেন। পরে বিশৃঙ্খলা দেখে তিনিও অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই বাজে আচরণ করা হয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে। গেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় লম্বা সময় ধরে।