নাটোরের গুরুদাসপুরের দড়িকাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর নাটোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম নবীকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যা ঘটেছিল- গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের ঘোষাণা দেয় তখনকার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের লোকজন ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যাক্ষ আহম্মেদ আলী। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের জন্য উভয়পক্ষ একই মাঠে ১৪ আগস্ট মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করে। এসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওই মাঠে উভয় পক্ষের আয়োজন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এরপর সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আহম্মেদ আলীর কর্মী-সমর্থকেরা তখনকার প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ওই মিছিল থেকে প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অশালিন ভাষায় স্লোগান দেওয়া হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল কুদ্দুস ও তার কর্মী সমর্থকরা।
যে কারণে সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হন কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া ওই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন গুরুদাসপুরের দড়িকাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাসুদুর রহমান। মূলত সংসদ সদস্যের মান ক্ষুন্ন করে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ স্লোগানের মিছিলে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। একারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আলোকে ওই সহকারি শিক্ষককে ২২ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তখন ইত্তেফাককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলা আওয়ামী লীগের তখনকার সভাপতি নাটোর-৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য অধ্যপক আব্দুল কুদ্দুস একই দলের কিছু নেতার ইন্ধোনে মিছিলে তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে ‘জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত’ শীর্ষক সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। গত ২৮ আগস্ট ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৩০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দেন। একই সঙ্গে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনার ব্যাখ্যা জানাতে নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম নবীকে ১৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে বুধবার আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
রিটের পক্ষে বশির আহমেদ নিজেই শুনানি করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে আইজনজীবী গাজী মোস্তাক আহমেদ শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান।
সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশে তিনি খুশি। তিনি আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবেন ভেবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইত্তেফাককে জানান, সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারে আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি।