আকস্মিক নদী ভাঙনে বসতবাড়ি ও বাজার বিলীন, ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

বাগেরহাটে শরণখোলার গাবতলায় গত দুই দিনে বলেশ্বর নদে বসতবাড়ি, গাছপালা ও বাজারসহ বিলীন হয়েছে রিং বেড়িবাঁধ। হুমকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল বেড়িবাঁধও। ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলায় গিয়ে দেখা যায়, রিংবাঁধ ভেঙে বলেশ্বর নদে বিলীন হচ্ছে। 

sarankhola picture (3) 19.10.2023

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন হাওলাদারসহ এলাকাবাসীরা জানায়, বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাবতলা আশার আলো মসজিদসংলগ্ন রিং বেড়িবাঁধে আকস্মিক ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে মুহূর্তে প্রায় ৪শ ফুট জায়গা জুড়ে গাছপালা দোকানসহ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকির মুখে পড়েছে সিসি ব্লক দেওয়া মূল বেড়িবাঁধ। রিংবাঁধ এবং মূল বাঁধের মাঝখানের অর্ধশতাধিক পরিবার এখন ভাঙন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে ঐ ইউপি সদস্য জানিয়েছে।

sarankhola picture (1) 19.10.2023

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন রাজিব জানায়, নদী শাসন না করে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ এখন ভাঙনের মুখে। গাবতলা, বগী, তাফালবাড়ীসহ বলেশ্বর তীরের প্রায় ১০-১২টি পয়েন্ট বেশি ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। ‘সিএইচডব্লিউই’ নামে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি টেকসই বাঁধের কাজ শুরু করে। তিন বছরে পুরো বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হতে সময়  লাগে প্রায় ৭ বছর। তিন দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানোর পর বাঁধের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ায় চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাঁধটি পাউবোর কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

sarankhola picture (2) 19.10.2023

উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) পরিচালক (পিডি) সৈয়দ হাসান ইমাম ফোনে জানায়, বলেশ্বর নদের মাঝে নতুন করে চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ ঘুরে বেড়িবাঁধের পাশে চলে আসায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভিত্তিতে ভাঙনস্থলে বালির বস্তা ফেলে ডাম্পিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।