মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মাস্তুল মেহমানখানা থেকে মাসব্যাপী বিনামূল্যে একবেলা খাবারের আয়োজন করেছে। ১১ হাজার নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা যারা দুপুরে অর্থের অভাবে পেট ভরে খেতে পারে না তাদের জন্য এই উদ্যোগ।
২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর মাস্তুলের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমানের জন্মদিনেই প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পদযাত্রা। রবীন্দ্র সরোবরে পথশিশুদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাস্তুলের গল্প। আর সেখানেই দেখতে পান অনেক শিশুরা ঝরে পরছে শুধু মাত্র খাবার যোগানের জন্য। পেটের ক্ষুধায় যেন কোন অসহায়কে কষ্ট পেতে না হয় সে জন্যে ২০১৯ সাল থেকে শুরু হয়েছে মাস্তুল মেহমানখানা প্রকল্পটি ।
ঢাকা শহরে এমন অনেক মানুষ আছে যারা জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বাসা থেকে অনেক দূরে কাজের খোঁজে আসে। অর্থের অভাবে দুপুরে তারা না পারে বাসায় যেতে না পারে পেট ভরে খেতে। তাদের জন্য এই কর্মসূচি। প্রতিদিন শতাধিক এর উপর এমন অনেক অসহায় দিনমজুর, পথশিশু, পরিবার পরিজনহীন বৃদ্ধ পিতা মাতা অতিথি হয়ে আসে মাস্তুল মেহমানখানায়। পেটপুরে খেয়ে যায় তাদের একবেলার খাবার। কখনও মাস্তুলের স্বেচ্ছাসেবীরা খাবার প্যাকেট করে নিয়ে যায় রবীন্দ্রসরোবর, শাহবাগ অথবা মোহাম্মদপুর বেরিবাধে বা নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে বিতরণের জন্য।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের হেড অব কমিউনিকেশন রায়হান রহমান জানান, আমরা সবাই জানি মানুষের প্রধান চাহিদা হচ্ছে খাদ্য। দু’মুঠো খাবার নিশ্চিত করার যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে হাজারো মানুষ। তাই এই মাস্তুল মেহমানখানার উদ্যোগ। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক মানুষ বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পেট ভরে খেয়ে যান আমাদের এই মেহমানখানা থেকে। তবে এই মাসটি একটু ভিন্ন। মাস্তুলের ১১ বছর পূর্তিতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি পুরো মাস জুড়ে ১১ হাজার এর অধিক এই অসহায়দের মাঝে বিনামূল্যে খাবার বিতরন করব।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, আমাদের সকল কাজ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে - জাতি, ধর্ম, বর্ন, নির্বিশেষে দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কল্যান সাধনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন। আর তাই মাস্তুলের মূল লক্ষ্য একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। যেখানে থাকবেনা কোন দারিদ্রতা, কোন অভাবি লোক, কোন ক্ষুধার্ত মানুষ, কোন ঝড়ে পড়া শিশু। আমরা প্রতিনিয়ত এই লক্ষ্য কে সামনে রেখে কাজ করছি । কাজ করতে যেয়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি তা হল ঢাকা শহরে এমন অনেক মানুষ আছে যারা তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারে না আর দুপুরের খাবার তো বিলাসিতা। আর তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি মাস্তুলের এই বর্ষপূর্তি মাসটি এইসকল অসহায় মানুষের দুপুরের খাবার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করার।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মাস্তুলের রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা এবং শেল্টারহোম যেখানে আবাসিক/অনাবাসিক মিলে শতাধিক পিতামাতাহীন/ অনাথ/ এয়াতিম শিক্ষার্থী রয়েছে । এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষার উপকরন দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাহিরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০০০ এর অধিক মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০০ এর অধিক লাশ দাফন হয়েছে। রয়েছে মাস্তুল মেহমানখানা, যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার ব্যাবস্থা হয়।